২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলনের উত্তাল সময়ে, রাজধানীর মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সফর এবং সেখানে তাঁর আবেগঘন বক্তব্য দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। আন্দোলনকারীদের ওপর সহিংসতা, হতাহতের ঘটনা ও চলমান দমন-পীড়নের প্রেক্ষাপটে এই সফর নিয়ে বিভিন্ন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যায়।
মেট্রোরেল স্টেশনে সফর
মধ্য জুলাই থেকে আন্দোলন ঘিরে সংঘর্ষ, প্রাণহানি ও সহিংসতার পর ২০২৪ সালের ২৫ জুলাই প্রথমবারের মতো গণভবন থেকে বের হন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। আহতদের দেখতে না গিয়ে তিনি মিরপুর-১০ নম্বর মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনে যান। সেখানে ক্ষতিগ্রস্ত অবকাঠামো দেখে আবেগাপ্লুত হয়ে তিনি ধ্বংসযজ্ঞের বিচার দাবি করেন।
সে সময় ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট, সেনা মোতায়েন ও কঠোর কারফিউর কারণে দেশের স্বাভাবিক জনজীবন কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছিল।
দেশজুড়ে গ্রেপ্তার অভিযান
১৮ থেকে ২১ জুলাইয়ের সংঘর্ষের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ব্যাপক অভিযান অব্যাহত থাকে। ২৫ জুলাই ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় আন্দোলনকারী শিক্ষার্থী ও সাধারণ মানুষকে গ্রেপ্তার করা হয়।
তৎকালীন তথ্য অনুযায়ী, একদিনেই ১২৮টি মামলায় ৪৫১ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
রাজধানীর রামপুরা, বাড্ডা, উত্তরা, যাত্রাবাড়ী ও মোহাম্মদপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় রাতভর অভিযান চালিয়ে বহু শিক্ষার্থীকে বাসা ও ছাত্রাবাস থেকে আটক করা হয় বলে অভিযোগ ওঠে। সরকারি স্থাপনায় নাশকতার অভিযোগে ঢাকার বিভিন্ন থানায় ২০১টি মামলা দায়ের করা হয় এবং ২৫ জুলাই পর্যন্ত দুই হাজার ২০৯ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়।
সফরকে ঘিরে প্রতিক্রিয়া
মেট্রোরেল স্টেশন পরিদর্শনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে আন্দোলনের সমন্বয়ক, ভুক্তভোগী পরিবার ও বিভিন্ন মহলে সমালোচনা দেখা দেয়। তাঁদের বক্তব্য ছিল, চলমান প্রাণহানি ও আহতদের পরিস্থিতির মধ্যে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতিকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে তাঁদের মনে হয়েছে। অন্যদিকে সরকার ক্ষতিগ্রস্ত রাষ্ট্রীয় সম্পদ পুনর্গঠন ও ধ্বংসযজ্ঞের বিচার নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরে।
অবরুদ্ধ রাজধানী
২৫ জুলাই রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কে সামরিক বাহিনীর সাঁজোয়া যান মোতায়েন ছিল এবং কারফিউ বলবৎ ছিল। সীমিত সময়ের জন্য শিথিলতা থাকলেও মানুষের চলাচল ছিল সীমিত। রেল চলাচল পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি এবং ইন্টারনেট সেবায়ও বিঘ্ন থাকায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগে ব্যাপক প্রভাব পড়ে।
আন্দোলনের নতুন কর্মসূচি
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়করা অজ্ঞাত স্থান থেকে বিবৃতি দিয়ে জানান, নিহতদের বিচার, আহতদের ক্ষতিপূরণ এবং গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মুক্তির দাবিতে তাঁদের কর্মসূচি চলবে।
সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসউদ নিহতদের স্মরণে পরদিন দেশের মসজিদ ও বিভিন্ন উপাসনালয়ে দোয়া ও প্রার্থনার আহ্বান জানান। পাশাপাশি দেশজুড়ে আহত বিক্ষোভকারীদের চিকিৎসার জন্য জরুরি মেডিকেল টিম গঠনের ঘোষণাও দেওয়ার হয়।
