ডাবল পার্কিং নিয়ে বাগ্বিতণ্ডা, মুহূর্তেই জড়ো হয় লোকজন; ফেসবুকভিত্তিক পেজে একতরফা সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত
মৌলভীবাজার শহরের ব্যস্ততম চৌমুহনা এলাকায় মব সৃষ্টি করে এক পুলিশ কর্মকর্তাকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। গতকাল ৩০ সেপ্টেম্বর বুধবার সন্ধ্যায় সিএনজি চালকের সঙ্গে বাগ্বিতণ্ডাকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটে।
জানা যায়, চৌমুহনা এলাকায় রাস্তার ওপর একটি সিএনজি ডাবল পার্কিং করে রাখায় যানজটের সৃষ্টি হয়। ওই পথে যাওয়ার সময় পুলিশ কর্মকর্তা সিএনজি চালককে গাড়িটি সরিয়ে নিতে বলেন। এ সময় চালক ‘পারলে গাড়ি নিয়ে যান’ বলে দম্ভ দেখান বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে ওই পুলিশ কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে একজন সার্জেন্টকে ফোন করেন। এরই মধ্যে চালক গাড়ি স্টার্ট দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগের চেষ্টা করলে পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে গাড়ির চাবি নিয়ে টানাটানি ও ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে।
এ সময় সিএনজিতে থাকা দুই নারী ও এক পুরুষ যাত্রী গাড়ি থেকে নেমে উচ্চস্বরে চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করেন। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটনাস্থলে লোকজন জড়ো হতে থাকে। একপর্যায়ে সেখানে মবের সৃষ্টি হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
আলাপকালে জানা গেছে, ওই পুলিশ কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার টিআই (ট্রাফিক ইন্সপেক্টর) হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি মৌলভীবাজার শহরের চৌমুহনা এলাকায় বাসা নিয়ে থাকেন।
এদিকে, ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের কয়েকটি ফেসবুকভিত্তিক ভিউনির্ভর পেজে ওই পুলিশ কর্মকর্তাকে নিয়ে একতরফাভাবে সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, ঘটনার উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ না করেই শুধু মব সৃষ্টিকারীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
এমনকি ওই কর্মকর্তাকে ডিআইজি পরিচয় দিয়েও সংবাদ প্রকাশ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের দাবি, এ ধরনের তথ্য প্রকাশের আগে ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট ও সংশ্লিষ্ট পুলিশ কর্মকর্তার বক্তব্য নেওয়া প্রয়োজন ছিল।
পুলিশ কর্মকর্তার দাবি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত এসব সংবাদ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও মানহানিকর। এ বিষয়ে ওই কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যেও নানা আলোচনা চলছে। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ ও উভয় পক্ষের বক্তব্য যাচাই করে বিষয়টি স্পষ্ট হওয়া প্রয়োজন বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
