ছবি : সংগৃহীত
যশোর মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিনের বিরুদ্ধে এক শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার প্রতিবাদে এবং সচিবের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন যশোর সরকারি মাইকেল মধুসূদন (এম এম) কলেজের শিক্ষার্থীরা। কর্মসূচিতে সংহতি জানিয়ে অংশ নেয় এম এম কলেজ শাখা ছাত্রদল।
সোমবার (১৭ আগস্ট) কলেজের ‘চেতনায় চিরঞ্জীব’ ভাস্কর্যের পাদদেশ থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। পরে মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় শিক্ষার্থীরা সচিবের অবিলম্বে অপসারণ, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
হেডফোন পরা নিয়ে বিতর্ক, শিক্ষার্থীকে চড়-থাপ্পড়ের অভিযোগ
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে সনদে বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের বিষয়ে যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে যান এম এম কলেজের ইতিহাস বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান।
সেজানের অভিযোগ, তার গলায় হেডফোন ঝোলানো দেখে সচিব ক্ষিপ্ত হয়ে তাকে গালিগালাজ করেন। একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারা হয়।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী জাহিদ হাসান সেজান বলেন, “বাবা-মায়ের নাম সংশোধনের জন্য আমি শিক্ষা বোর্ডের সচিবের কক্ষে গিয়েছিলাম। আমার গলায় একটি হেডফোন ঝোলানো ছিল। সেটি দেখেই সচিব মহোদয় আমার প্রতি চড়াও হন, আমাকে গালাগাল করে মুখে চড় মারেন।
অপসারণের দাবি, কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
বিক্ষোভে সংহতি জানিয়ে জেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক কামরুজ্জামান বাপ্পি বলেন, একজন পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা হয়ে কীভাবে একজন শিক্ষার্থীর ওপর চড়াও হতে পারেন, তা বোধগম্য নয়। সামান্য একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।
তিনি অবিলম্বে শিক্ষা বোর্ডের সচিবের অপসারণ দাবি করে বলেন, এ দাবি দ্রুত বাস্তবায়ন না হলে আরও কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
বিক্ষোভ কর্মসূচিতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শেখ হাসান ইমাম, এম এম কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি জাহিদুল ইসলাম বিল্টু, সাধারণ সম্পাদক আকিব আনোয়ার, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মেহেদী হাসান, সহসভাপতি টিটোন তরফদারসহ বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।
অভিযোগ অস্বীকার সচিবের
তবে শিক্ষার্থীর গায়ে হাত তোলার অভিযোগ পুরোপুরি অস্বীকার করেছেন যশোর শিক্ষা বোর্ডের সচিব অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মতিন।
সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ওই শিক্ষার্থী তার কক্ষে ঢোকার সময় শার্টের বোতাম খোলা এবং গলায় হেডফোন ঝোলানো ছিল। একজন শিক্ষক হিসেবে তিনি শুধু শিক্ষার্থীকে পোশাক-আশাক ঠিক করে এবং মার্জিতভাবে কক্ষে প্রবেশ করতে বলেছেন।
সচিবের ভাষ্য, তাকে কোনো ধরনের মারধর করা হয়নি। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ তোলা হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও অপপ্রচার।
ফলে শিক্ষার্থীকে লাঞ্ছিত করার অভিযোগ ও সচিবের বক্তব্যকে ঘিরে যশোরে তৈরি হয়েছে নতুন বিতর্ক। শিক্ষার্থীদের দাবি, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।
