মঙ্গলবার, ২০শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৪ঠা কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

রাতের আঁধারে ওয়াকফ জমিতে ‘মাটি লুট’! মসজিদ-মাদ্রাসার সম্পত্তি পুকুরে রূপান্তর—গ্রামজুড়ে ক্ষোভ, রহস্যে মোড়া কাহিনি

কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি
এপ্রিল ৫, ২০২৬ ১২:১৯ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নিঃশব্দ রাত, চারপাশে ঘুমে ঢুলছে গ্রাম—আর ঠিক সেই অন্ধকারের বুক চিরে চলছে ভেকুর গর্জন! একসময় যে জমিতে দোয়া আর স্বপ্নের বীজ বোনা হতো, সেই পবিত্র ওয়াকফ সম্পত্তিই আজ পরিণত হয়েছে বিতর্ক আর বেদনার গভীর পুকুরে।

এদিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈগ্রাম এলাকায় বাগৈগ্রাম জামে মসজিদ ও মাদ্রাসার নামে ওয়াকফকৃত প্রায় ৩০ শতক ফসলি জমি রাতের আঁধারে কেটে পুকুর খননের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, খোকন, মালেক, জয়নাল ও খোরশেদসহ একটি শক্তিশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে গোপনে মাটি কাটার সিন্ডিকেট গড়ে তোলে। তাদের নেতৃত্বে রাতের বেলায় ভেকু (এক্সকাভেটর) ও ট্রাক ব্যবহার করে জমির উর্বর মাটি কেটে নিয়ে যাওয়া হয়। একপর্যায়ে পুরো জমিটিই পুকুরে রূপ নেয়—আর সেই মাটি বিক্রি হয় লক্ষ লক্ষ টাকায়!

আবার মসজিদের মোয়াল্লেম আবদুল কাদেরের কণ্ঠে তখন ক্ষোভ আর অসহায়তার মিশ্র সুর— এই জমি ছিল মসজিদ ও মাদ্রাসার ভবিষ্যতের ভরসা। অথচ আমার অজান্তেই রাতের আঁধারে সব শেষ করে দেওয়া হলো!
তিনি জানান, মৃত আতর আলী জীবদ্দশায় এই জমি মসজিদ ও মাদ্রাসার জন্য ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে এই জমি মসজিদের উন্নয়নের প্রয়োজনে বন্ধক হিসেবে ব্যবহৃত হতো। কিন্তু হঠাৎ করেই একদল লোক গোপনে পুরো জমির মাটি কেটে নিয়ে যায়।স্থানীয় কৃষকদের চোখে এই ঘটনা শুধু জমি হারানোর নয়—এ এক জীবিকার কান্না। তারা বলছেন, ফসলি জমি এভাবে কেটে নেওয়ায় মাটির উর্বরতা নষ্ট হচ্ছে, জমি নিচু হয়ে যাচ্ছে, চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আমরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি।

এদিকে জমিদাতা মৃত আতর আলীর ছেলে মোঃ মফিজুর রহমানও বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন— আমরা শহরে থাকি। বাড়িতে এসে শুনি, কে বা কারা মসজিদের ওয়াকফ জমির মাটি বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা এ বিষয়ে কিছুই জানতাম না।

তবে অভিযুক্তদের বক্তব্যে ভিন্ন সুর— তারা দাবি করছেন, মাটি বিক্রি করা হয়েছে ঠিকই, কিন্তু ব্যক্তিগত লাভের জন্য নয়। জমিতে ভালো ফসল হতো না, তাই মসজিদ ও মাদ্রাসার নির্মাণকাজের জন্যই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে—কমিটির অনুমতি নিয়েই। এই দ্বন্দ্ব যেন আরও গভীর করছে রহস্যের কুয়াশা। সত্য কোথায়—উন্নয়নের আড়ালে লুকানো স্বার্থ, নাকি অপপ্রচারের জাল?

এলাকাবাসীর একটাই দাবি— দ্রুত তদন্ত হোক, সত্য বেরিয়ে আসুক, আর রক্ষা পাক পবিত্র ওয়াকফ সম্পত্তি ও কৃষিজমি। কারণ, এই গল্প শুধু মাটির নয়— এটি বিশ্বাসের, এটি দায়বদ্ধতার, আর এটি সেই অদৃশ্য সীমারেখার—যেখানে ধর্ম, সম্পদ আর নৈতিকতার লড়াই একাকার হয়ে যায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।