শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বপ্ন ছিল ছাত্রদের, প্রাণ দিলেন শ্রমিকরা—জুলাই অভ্যুত্থান নিয়ে প্রতিমন্ত্রী অমিত

যশোর জেলা প্রতিনিধি
মে ১, ২০২৬ ৬:০৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জুলাইয়ের সেই উত্তাল দিনগুলো—রক্তে রাঙা ইতিহাসের ভেতর দিয়ে উঠে আসা এক বেদনাভারাক্রান্ত সত্য আজও হৃদয়কে নাড়া দেয়। বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত স্মরণ করিয়ে দিলেন সেই নির্মম বাস্তবতা—জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হওয়া অধিকাংশই ছিলেন শ্রমিক।

তিনি বললেন, আন্দোলনের স্বপ্ন বুনেছিল ছাত্রসমাজ, কিন্তু সেই স্বপ্নের বিনিময়ে প্রাণ উৎসর্গ করেছেন ঘামঝরা জীবনের নীরব যোদ্ধারা—শ্রমিকরা। যেন ইতিহাসের বুক জুড়ে লেখা আছে এক অদৃশ্য বৈপরীত্য—স্বপ্নের নকশা এক হাতে, আর তার মূল্য চুকিয়েছে অন্য হাত।

শুক্রবার সকালে যশোর জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মহান মে দিবসের র‌্যালি-পূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এই কথাগুলো বলেন। তার কণ্ঠে ছিল প্রতিশ্রুতির দৃঢ়তা, আবার কোথাও যেন লুকানো ছিল হারানোর ব্যথা।

তিনি জানান, শ্রমিকদের সেই ত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সরকার প্রতিজ্ঞাবদ্ধ—বন্ধ হয়ে যাওয়া সরকারি কলকারখানা পুনরায় চালু করা হবে, কর্মসংস্থানের নতুন দুয়ার খুলে দেওয়া হবে, আর ন্যায্য মজুরি নিশ্চিত করা হবে। যেন শ্রমিকের ঘরে আবার জ্বলে ওঠে আশার আলো, ফিরে আসে হাসির শব্দ।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ডের মতো উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিক পরিবারগুলোকে কিছুটা স্বস্তি দেওয়ার চেষ্টা চলছে। কৃষকদের জন্য ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ সুদসহ মওকুফ—একটি ছোট সহানুভূতির হাত বাড়ানো। হাওর অঞ্চলের বৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য তিন মাসের বিশেষ খাদ্য সহায়তা—এ যেন বিপর্যস্ত জীবনে একটুখানি আশ্রয়।

তার কথাগুলো ছিল শুধু ঘোষণা নয়—ছিল এক ধরনের দায়বদ্ধতার স্বীকারোক্তি। যেন তিনি বলতে চাইছিলেন, যারা চলে গেছে, তাদের শূন্যতা পূরণ করা যাবে না, কিন্তু তাদের স্বপ্নটুকু বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

বক্তব্য শেষে আকাশে উড়ল বেলুন, রঙিন ফেস্টুন—কিন্তু সেই রঙের আড়ালেও যেন ভেসে বেড়াচ্ছিল কিছু অদৃশ্য প্রশ্ন, কিছু অপ্রকাশিত বেদনা। র‌্যালিটি শহরের প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে গিয়ে শেষ হয়—যেন এক প্রতীকী যাত্রা, শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সংগ্রামের গল্প বলা এক পথচলা।

সমাবেশে আরও উপস্থিত ছিলেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রফিকুল হাসান, পুলিশ সুপার সৈয়দ রফিকুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট সৈয়দ সাবেরুল হক সাবু, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন খোকনসহ বিভিন্ন শ্রমিক ইউনিয়নের নেতারা।

শেষ পর্যন্ত থেকে যায় এক গভীর অনুভব—আন্দোলনের আগুন জ্বালিয়েছিল ছাত্ররা, কিন্তু সেই আগুনে পুড়ে নিঃশেষ হয়েছে শ্রমিকের জীবন। ইতিহাস তাই শুধু বিজয়ের নয়, ত্যাগেরও—আর সেই ত্যাগের নীরব নাম, শ্রমিক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।