শুক্রবার, ১লা মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৮ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইরান-মার্কিন উত্তেজনা: আকাশ প্রতিরক্ষা সক্রিয়, আইনি চাপের মুখে ট্রাম্প প্রশাসন

এএফপি
মে ১, ২০২৬ ৪:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

তেহরানের সড়কের পাশে প্রদর্শন করা হয় ক্ষেপণাস্ত্র। ফাইল ছবি: এএফপি

ইরানে সামরিক উত্তেজনা শুরু হওয়ার দুই মাস পার হলেও পরিস্থিতি এখনো অনিশ্চিত। অস্ত্রবিরতি কার্যকর থাকলেও যুদ্ধ আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হয়নি। এই প্রেক্ষাপটে নতুন করে সংঘাতের আশঙ্কা যেমন বাড়ছে, তেমনি যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরেও তৈরি হয়েছে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক চাপ।

মার্কিন আইনের বিধান অনুযায়ী, একজন প্রেসিডেন্ট তাঁর নির্বাহী ক্ষমতা ব্যবহার করে সর্বোচ্চ ৬০ দিন পর্যন্ত কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই বিদেশে সামরিক বাহিনী মোতায়েন রাখতে পারেন। সেই সময়সীমা শেষ হতে যাচ্ছে স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। কিন্তু এখনো কংগ্রেসের আনুষ্ঠানিক অনুমোদন নেওয়া হয়নি, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

এদিকে হোয়াইট হাউস থেকে ইঙ্গিত মিলেছে—এই সময়সীমা উপেক্ষা করেই সামরিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ফলে নতুন করে হামলার শঙ্কা তৈরি হওয়ায় সতর্ক অবস্থানে গেছে ইরান।

আইআরজিসি-ঘনিষ্ঠ বার্তা সংস্থা তাসনিম ও ফার্সের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, রাজধানী তেহরানের কিছু এলাকায় হঠাৎ বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার সক্রিয়তা দেখা যায়। প্রায় ২০ মিনিট ধরে ‘ছোট আকারের বিমান ও নজরদারি ড্রোন’ লক্ষ্য করে এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা চালু রাখা হয়।

পরবর্তীতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে এলেও ঘটনাটি ইঙ্গিত দিচ্ছে—অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা এখনো প্রশমিত হয়নি। বরং সামান্য উসকানিতেই পরিস্থিতি আবারও বড় ধরনের সংঘাতে রূপ নিতে পারে।

ট্রাম্প প্রশাসনের সাম্প্রতিক কিছু পদক্ষেপে ইরানে নতুন করে সামরিক অভিযান শুরুর আশঙ্কা করা হচ্ছে। একই সময়ে প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধের মেয়াদ বৃদ্ধির অনুমোদন নেওয়ার সময়সীমা শেষ হওয়ায় ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের মধ্যে এক ধরনের সাংবিধানিক বিরোধের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

গত মার্চের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর হামলার বিষয়টি কংগ্রেসকে আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছিলেন। তখন থেকেই আইন অনুযায়ী ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা শুরু হয়। নিয়ম অনুযায়ী, আইনপ্রণেতারা অতিরিক্ত সময়ের অনুমোদন না দিলে প্রশাসনকে হামলা বা যুদ্ধ বন্ধ করতে হয়।

ডেমোক্র্যাটদের দাবি, প্রেসিডেন্ট ইতোমধ্যে নড়বড়ে আইনি অবস্থানের ওপর দাঁড়িয়ে আছেন। এই সময়সীমা পার হয়ে গেলে তিনি আইনত অপরাধী সাব্যস্ত হবেন। সিনেটে ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা চাক শুমার রিপাবলিকানদের প্রতি যুদ্ধ বন্ধে সহায়তার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ৬০ দিনের এই সময়সীমা পার হওয়ার পর ট্রাম্প ‘ওয়ার পাওয়ারস অ্যাক্ট’ লঙ্ঘন করছেন বলে গণ্য করা হবে।

তবে ট্রাম্প প্রশাসন এই ব্যাখ্যা মানতে নারাজ। তাদের যুক্তি, যেহেতু গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি শুরু হয়েছে এবং কোনো হামলাও হয়নি, সুতরাং ওইদিনই ৬০ দিনের সময়সীমা গণনা বন্ধ হয়ে গেছে। এএফপিকে প্রশাসনের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা বলেন, ওয়ার পাওয়ার রেজোলিউশন, অনুযায়ী গত ২৮ ফেব্রুয়ারি শুরু হওয়া সংঘাত যুদ্ধবিরতি কার্যকরের মধ্যে দিয়ে শেষ হয়েছে। গত ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আর কোনো গোলাগুলি বা হামলা হয়নি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।