রাজধানী ঢাকাকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও নান্দনিক মহানগর হিসেবে গড়ে তোলার প্রত্যয় পুনর্ব্যক্ত করেছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন (ডিএসসিসি)-এর প্রশাসক মো. আবদুস সালাম। তিনি জোর দিয়ে বলেন, নাগরিকদের সম্মিলিত সচেতনতা ও সক্রিয় অংশগ্রহণ ছাড়া একটি আধুনিক, বাসযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব নগরী নির্মাণ সম্ভব নয়।

বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) রাজধানীর কাকরাইল মসজিদ মোড় থেকে গুলিস্তান জিরো পয়েন্ট হয়ে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল পর্যন্ত সড়কের মিডিয়ান ও ফুটপাতজুড়ে সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রমের উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রশাসক জানান, সরকারের ‘ক্লিন সিটি, গ্রিন সিটি’ বাস্তবায়ন পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এই সড়কটিকে একটি মডেল করিডোর হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। প্রকল্পের প্রথম ধাপে সড়কের বিভিন্ন অংশে ৫৪টি নান্দনিক ফুলের টব স্থাপন করা হয়েছে। এসব টবে বাগান বিলাস, রঙ্গন, অলোকানন্দা, পোর্টুলিকা ও কামিনীসহ বিভিন্ন প্রজাতির বাহারি ফুলের গাছ রোপণ করা হবে, যা শহরের সৌন্দর্যে নতুন মাত্রা যোগ করবে।

তিনি বলেন, আমাদের লক্ষ্য—ঢাকা শহরকে এমনভাবে সাজানো, যেন এটি প্রতিটি নাগরিকের নিজের বাড়ির আঙিনার মতো পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সবুজে ঘেরা থাকে।
নাগরিক দায়িত্ববোধের ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি আরও বলেন, শুধু সিটি কর্পোরেশন বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একক উদ্যোগে এ ধরনের কার্যক্রম টেকসই হবে না। গাছপালা রক্ষা, ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা এবং নির্ধারিত স্থানে বর্জ্য ফেলার অভ্যাস গড়ে তুলতে নগরবাসীকেই অগ্রণী ভূমিকা নিতে হবে।
তিনি সতর্ক করে বলেন, একদিকে আমরা গাছ লাগাব, অন্যদিকে যদি তা সংরক্ষণ না করা হয়—তাহলে এই উদ্যোগের সুফল পাওয়া যাবে না। পরিবেশ সুরক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল হতে হবে।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে প্রশাসক জানান, চলমান প্রকল্পের কাজ আগামী এক মাসের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী ধাপে ধানমন্ডি আবাসিক এলাকা ও লেককেন্দ্রিক সৌন্দর্যবর্ধন কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। পর্যায়ক্রমে এই উদ্যোগ পুরো রাজধানীজুড়ে বিস্তৃত করা হবে।

অনুষ্ঠানে ডিএসসিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সমাপনী বক্তব্যে প্রশাসক নগরবাসীর সার্বিক সহযোগিতা কামনা করে বলেন, একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও বাসযোগ্য ঢাকা গড়তে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।
