ঢাকার ঐতিহ্যবাহী চিকিৎসাকেন্দ্র মিটফোর্ড হাসপাতাল—যেখানে প্রতিদিন জীবনের লড়াই চলে—সেই নীরব প্রাঙ্গণেই যেন জন্ম নিয়েছে এক অদৃশ্য কাহিনি। হিসাবের খাতা আর সংখ্যার নির্লিপ্ত জগৎ পেরিয়ে সেখানে এখন ভেসে বেড়াচ্ছে কোটি টাকার এক রহস্যময় গল্প।
এই গল্পের কেন্দ্রে আছেন হাসপাতালের হিসাবরক্ষক জাহিদুর রহিম—যার নাম এখন ফিসফিসে আলোচনার ঝড় তুলেছে প্রশাসনিক মহল থেকে শুরু করে জনমনে। অভিযোগ—সরকারি দায়িত্বের আড়ালে গড়ে তুলেছেন প্রায় ৮ কোটি টাকার এক বিস্ময়কর সম্পদের সাম্রাজ্য। যদিও অভিযোগ এখনো প্রমাণিত নয়, তবু সন্দেহের ছায়া যেন ক্রমেই ঘন হয়ে উঠছে।
সূত্র বলছে, বছরের পর বছর ধরে সরকারি অর্থ ব্যবস্থাপনার স্পর্শে থাকা এই মানুষটি সংখ্যার ভেতরেই খুঁজে নিয়েছিলেন অন্য এক বাস্তবতা—যেখানে হিসাবের অঙ্ক আর জীবনের অঙ্ক এক হয়ে যায় না। বিল, ক্রয় প্রক্রিয়া, নথির স্তূপ—সবকিছুর ভেতর লুকিয়ে থাকতে পারে অদৃশ্য গল্প, যার প্রতিটি লাইনে জড়িয়ে আছে প্রশ্ন।
অভিযোগের ভাঁজ খুলতেই উঠে এসেছে সম্পদের এক বিস্তৃত মানচিত্র—ডেমরার বাঁশের পুল এলাকায় “নূরমহল” নামে আটতলা ভবন, মুসলিম নগর টাওয়ারে একাধিক ফ্ল্যাট, এমনকি নির্মাণাধীন আরও ভবন। যেন ইট-পাথরের প্রতিটি স্তম্ভে লেখা রয়েছে এক অজানা উৎসের গল্প—যা তার সরকারি বেতনের সীমারেখাকে ছাপিয়ে যায় বহু দূর।
এছাড়াও তার দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে অনুসন্ধান চলছে। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়। আমাদের অনুসন্ধানে রয়েছে চৌকস একদল সিনিয়র রিপোর্টার। রাজধানীজুড়ে গোটা মেডিকেলগলো ঘিরে অনুসন্ধান অব্যাহত থাকবে।
প্রশাসনিক সূত্রের ভাষ্য, দীর্ঘদিন ধরে হিসাব বিভাগের নিয়ন্ত্রণে থাকা অবস্থানটি ছিল ক্ষমতার এক নীরব চাবিকাঠি। সেই চাবি কি খুলে দিয়েছে অনিয়মের গোপন দরজা?—এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে সংশ্লিষ্ট মহলে।
তবে এখানেই থেমে নেই গল্পের টান। এখনো কোনো তদন্ত সংস্থা চূড়ান্তভাবে কিছু বলেনি। সত্য আর অভিযোগ—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে এক অপেক্ষা। যেন সময় নিজেই খুঁজছে প্রমাণের ভাষা।
স্বাস্থ্য খাতের মতো সংবেদনশীল জায়গায় এমন অভিযোগ যেন এক গভীর প্রতিচ্ছবি তুলে ধরে—যেখানে সেবার আলো আর অনিয়মের ছায়া পাশাপাশি হাঁটে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডিজিটাল হিসাব, নিয়মিত অডিট এবং স্বাধীন তদন্ত ছাড়া এই ছায়া কাটানো কঠিন।
এদিকে নাগরিক সমাজ বলছে, সত্যকে দ্রুত আলোর মুখ দেখানো জরুরি। কারণ দীর্ঘ অপেক্ষা শুধু সন্দেহ বাড়ায়, আস্থা কমায়।
এই গল্প এখনো শেষ হয়নি—এটি কেবল শুরু। তদন্তের পর্দা উঠলেই জানা যাবে, এটি কি কেবল অভিযোগের কুয়াশা, নাকি সত্যিই লুকিয়ে আছে কোটি টাকার এক অদৃশ্য জাল।
শেষ প্রশ্নটা তাই রয়ে যায়—
হিসাবের খাতায় যা লেখা নেই, সেটাই কি আসল গল্প?
চলবে…..
