বুধবার, ২৯শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৬ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

কমিশনের অদৃশ্য জাল: ময়মনসিংহে এলজিইডির ভেতরে দুর্নীতির ‘নীরব সাম্রাজ্য’ নির্বাহী প্রকৌশলী সালমানকে ঘিরে তীব্র ক্ষোভ

মামুনুর রশীদ মামুন
এপ্রিল ২৯, ২০২৬ ১:৩৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

ময়মনসিংহে স্থানীয় সরকার (এলজিইডি)-এর এক কার্যালয়কে ঘিরে যেন গড়ে উঠেছে এক অদৃশ্য অথচ শক্তিশালী সাম্রাজ্য—যেখানে নিয়ম নয়, চলে “৩% কমিশন”-এর অলিখিত আইন। অভিযোগের পর অভিযোগ, ক্ষোভের পর ক্ষোভ—সব মিলিয়ে ঠিকাদারদের কণ্ঠে আজ এক নিঃশব্দ আর্তনাদ।

বিশেষ প্রতিনিধি মামুনুর রশীদ মামুনের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে এক ভয়ংকর বাস্তবতা—বিল ছাড় পেতে হলে দিতে হবে কমিশন, না হলে আটকে যাবে ফাইল, থেমে যাবে কাজ, জমে উঠবে প্রশাসনিক জট। যেন ভালোবাসার গল্প নয়, বরং এক নির্মম সম্পর্ক—যেখানে ঠিকাদার আর দপ্তরের মধ্যে লেনদেনের এই অস্বচ্ছ বন্ধন প্রতিনিয়ত জন্ম দিচ্ছে অবিশ্বাস আর ক্ষোভের।

৩% কমিশন—একটি অঘোষিত নিয়ম! ঠিকাদারদের ভাষ্য, বিল ছাড়ের আগে ৩ শতাংশ পর্যন্ত অর্থ দিতে হয়। এই অর্থ যেন এক নীরব প্রতিশ্রুতি—না দিলে ভালোবাসা নয়, বরং আসে অবহেলা, বিলম্ব আর হয়রানি। অনেকে বলছেন, এটি আর অভিযোগ নয়—এটি এখন প্রথা।

সাইট ভিজিটেও ‘নাটকীয়তা’! যেখানে প্রকল্পের প্রাণ হলো সাইট পরিদর্শন, সেখানে অভিযোগ—অর্থ দিলে “দেখা ছাড়াই” রিপোর্ট, আর না দিলে ভালো কাজেও নেতিবাচক মন্তব্য!

এ যেন এক অদ্ভুত প্রেমের খেলা—যেখানে সত্য নয়, টাকার হাতছানি নির্ধারণ করে রিপোর্টের ভাষা।
সহকারী প্রকৌশলী গিয়াস উদ্দিন ও রাসেলকে ঘিরেও উঠেছে গুরুতর অভিযোগ—ঘুষ না দিলে হয়রানিমূলক রিপোর্ট, আর দিলে দায়সারা ইতিবাচক মন্তব্য!

রোলারও ঘোরে ‘টাকার তালে’ প্রকল্পে ব্যবহৃত সরকারি রোলার—যা উন্নয়নের প্রতীক—তা নিয়েও অভিযোগ কম নয়। প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা ঘুষ, সাথে ডিজেলের খরচ, চালকের আলাদা সম্মানী—না দিলে নাকি চাকা ঘোরে না। এ যেন যন্ত্র নয়, এক অনুভূতিহীন সম্পর্ক—যেখানে কাজের গতি নির্ভর করে টাকার স্পর্শে।

নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান—অদৃশ্য নিয়ন্ত্রণ? ৩% কমিশন ছাড়াও সালমানের জন্য বরাদ্দ করেন ৭% কমিশন।যার কোন প্রমাণ থাকেনা। তবে এ কমিশন না দেওয়া হলে বিভিন্ন অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা হয়। তখন ঠিকাদারদের বোবা কান্না শুরু হয়। সব অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে নির্বাহী প্রকৌশলী সালমান।
অভিযোগ উঠেছে—তিনি সরাসরি সামনে না থাকলেও “অদৃশ্য ইশারায়” নিয়ন্ত্রণ করছেন পুরো ব্যবস্থাকে।
অ্যাকাউন্টেন্ট শহিদুল ইসলাম তার নির্দেশেই কমিশন আদায় করেন—এমন অভিযোগও এসেছে একাধিক সূত্র থেকে।

বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি—নীরবতা যেন আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে রহস্য। নীরবতার মানে-কি দোষ স্বীকার না দায়মুক্তি। এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।

ভয়ের সংস্কৃতি—নীরবতার দেয়াল কবে ভাঙবে।
অনেকে সত্য জানেন, কিন্তু বলেন না। কারণ—চাকরি হারানোর ভয়, বদলি, হয়রানি। এই নীরবতা যেন এক চাপা প্রেমের মতো—যেখানে সত্য লুকিয়ে থাকে, কিন্তু ব্যথা প্রকাশ পায় না।

প্রশ্ন এখন—কবে ভাঙবে এই চক্র? সুশীল সমাজ বলছে—এখনই দরকার উচ্চ পর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত।
না হলে “৩% কমিশন” শুধু একটি অফিসে সীমাবদ্ধ থাকবে না—এটি ছড়িয়ে পড়বে পুরো ব্যবস্থায়।

এই গল্প শুধু দুর্নীতির নয়—এটি বিশ্বাসভঙ্গের গল্প, উন্নয়নের সাথে প্রতারণার গল্প। যদি অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি শুধু একজন কর্মকর্তা বা একটি দপ্তরের দায় নয়—এটি পুরো রাষ্ট্রীয় কাঠামোর জন্য এক গভীর সতর্কবার্তা।

এখন দেখার বিষয়—এই অদৃশ্য সাম্রাজ্যের পর্দা কবে উঠে যায়, আর ন্যায়বিচারের আলো কবে পৌঁছায় ময়মনসিংহের সেই কার্যালয়ে।
বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী সংখ্যায়। চলমান….

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।