শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটন ও পিচ্চি হেলাল
বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরে কিটন হত্যার ঘটনা ঘটেছে। রাজধানীর নিউমার্কেট এলাকায় তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে গুলি করে হত্যার ঘটনায় একটি মামলা হয়েছে। বুধবার সকালে নিহতের বড় ভাই খন্দকার সাঈদ আক্তার রিপন বাদী হয়ে অজ্ঞাত আসামিদের বিরুদ্ধে নিউমার্কেট থানা-এ মামলাটি করেন।
তবে মামলায় সরাসরি কারও নাম উল্লেখ না থাকলেও এজাহারে কয়েকজনের নাম এসেছে। তারা হলো শীর্ষ সন্ত্রাসী ইমামুল হাসান হেলাল ওরফে পিচ্চি হেলাল, বাদল ওরফে কিলার বাদল ওরফে কাইলা বাদল, শাহজাহান, রনি ওরফে ডাগারি রনি। তাদের সঙ্গে বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধ ছিল টিটনের।
নিউমার্কেট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ আইয়ুব বলেন, টিটন হত্যার ঘটনায় একটি হত্যা মামলা হয়েছে। মামলায় ৮-৯ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
বাদী এজাহারে উল্লেখ করেন, দীর্ঘদিন কারাভোগের পর ২০২৪ সালের ১৩ আগস্ট জামিনে মুক্তি পান তার ছোট ভাই টিটন। মুক্তির পর তিনি পরিবারের সঙ্গে মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখতেন এবং স্বাভাবিক জীবনে ফেরার চেষ্টা করছিলেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, কিছুদিন আগে টিটন জানান তিনি একটি শিডিউল কিনেছেন এবং কাজ শুরু করার পরিকল্পনা করছেন। পরে ২৬ এপ্রিল তিনি জানান, বছিলা গরুর হাটের ইজারা শিডিউল নিয়ে উল্লেখিত ব্যক্তিদের সঙ্গে তার বিরোধ চলছে।
পরদিন ২৭ এপ্রিল টিটন জানান, তাকে আলোচনার জন্য ডাকা হয়েছে। এরপর ২৮ এপ্রিল রাতে জানা যায়, নিউমার্কেট এলাকায় তিনি গুলিবিদ্ধ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
গত মঙ্গলবার রাত পৌনে ৮টার দিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় দুর্বৃত্তরা টিটনকে গুলি করে হত্যা করে। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা মৃত ঘোষণা করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনায় অজ্ঞাত ৮-৯ জনকে আসামি করে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং তদন্ত চলছে। এজাহারে উল্লেখিত নামগুলো যাচাই-বাছাই করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
উল্লেখ্য যে, বছিলা গরুর হাটের ইজারা নিয়ে বিরোধের জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। ঘটনায় একাধিক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নাম আসায় এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। তবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ব্যাপক তৎপরতা রয়েছে।
