শুনানিতে লিমন ও বৃষ্টির বন্ধুদের সঙ্গে কথা বলেন হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি সুসান লোপেজ (ডানে)। মঙ্গলবার ফ্লোরিডার একটি আদালতে। ছবি: টম্পা বে টাইমসের সৌজন্যে
বাংলাদেশি দুই শিক্ষার্থী জামিল লিমন ও নাহিদা বৃষ্টির হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া অভিযুক্তকে যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে হাজির করা হয়েছে। স্থানীয় সময় মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত এ শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন নিহতদের বন্ধু, সহপাঠী ও প্রবাসী বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। তারা আদালতে আবেগঘন কণ্ঠে জানান—প্রবাসে তারাই ছিল একে অপরের পরিবার।
আদালতে অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়া (২৬)-এর জামিন আবেদন নাকচ করা হয় এবং তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন বিচারক।
মামলার নথি অনুযায়ী, তার বিরুদ্ধে হত্যা, মরদেহের অংশ সংরক্ষণ এবং প্রমাণ নষ্টসহ একাধিক গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে।
হিলসবরো কাউন্টির স্টেট অ্যাটর্নি সুসান লোপেজ জানান, মামলাটি গ্র্যান্ড জুরির সামনে উপস্থাপন করা হবে। এরপর আসামির বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ড চাওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সহপাঠীদের আবেগঘন বক্তব্যে- শুনানিতে উপস্থিত ছিলেন ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা-এর বাংলাদেশি শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থী সালমান সাদিক শুভ বলেন,
লিমন ছিলেন অত্যন্ত নম্র ও ভদ্র স্বভাবের, আর বৃষ্টি ছিলেন মিষ্টি হাসির প্রাণবন্ত একজন মানুষ। যুক্তরাষ্ট্রে আসার পর তাদের সঙ্গে তার গভীর বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে।
আরেক শিক্ষার্থী রিফাতুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ থেকে ৮ হাজার মাইল দূরে এসে আমরা একে অপরের পরিবার হয়ে উঠেছিলাম। একসঙ্গে সময় কাটানো, খাওয়া—সবকিছুই ছিল পারিবারিক বন্ধনের মতো। এই ঘটনায় আমরা গভীরভাবে মর্মাহত, তবে ন্যায়বিচারের প্রত্যাশা করছি।
ইউএসএফ-এর আরেক শিক্ষার্থী হাসিব সৌরভ জানান, ঘটনার পর ক্যাম্পাসের বাংলাদেশ স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন সমন্বয় কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
ইসলামি রীতিতে মরদেহ সংরক্ষণে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের সহায়তাও চাওয়া হয়েছে।
অভিযুক্ত হিশাম নিহত শিক্ষার্থী লিমনের রুমমেট ছিলেন।
গত ১৬ এপ্রিল একই দিনে লিমন ও বৃষ্টি নিখোঁজ হন। পরে লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এরপর পিনেলাস কাউন্টি এলাকায় মানবদেহের কিছু অংশ উদ্ধার করে পুলিশ, যা বৃষ্টির হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও এখনো নিশ্চিত করা হয়নি।
বিদেশের মাটিতে গড়ে ওঠা সম্পর্কগুলো কখনো কখনো রক্তের সম্পর্ককেও ছাড়িয়ে যায়।
লিমন-বৃষ্টির সহপাঠীদের চোখে তারা ছিলেন পরিবার—
আর সেই পরিবারের দুই সদস্যকে হারানোর বেদনা আজ ছড়িয়ে পড়েছে আদালত কক্ষ থেকে প্রবাসী বাংলাদেশি সমাজজুড়ে। ন্যায়বিচারের প্রত্যাশায় এখন সবার দৃষ্টি আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে।
