হজরত শাহজালাল বিমানবন্দর
দেশজুড়ে এক অদৃশ্য আতঙ্কের আবহ—নীরব কিন্তু তীব্র।
সম্ভাব্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় যেন আকাশপথের প্রতিটি শ্বাসে মিশে গেছে সতর্কতার কড়া গন্ধ। রাজধানীর হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরসহ দেশের সব বিমানবন্দরে জারি হয়েছে বাড়তি নিরাপত্তা, যেখানে প্রতিটি পদক্ষেপ এখন নজরবন্দি, প্রতিটি চলাচল যেন এক গোপন গল্পের অংশ।
সোমবার বিমানবন্দর সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো নিশ্চিত করেছে—পুলিশ সদর দপ্তরের সতর্কবার্তার পর থেকেই বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ সক্রিয় হয়েছে এক নতুন মাত্রায়। ইউনিফর্মে আর সাদা পোশাকে ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে অতিরিক্ত নিরাপত্তা সদস্য, যেন অচেনা ভিড়ের মাঝেও খুঁজে পাওয়া যায় অস্বাভাবিকতার ক্ষীণতম ছায়া।
এয়ারপোর্টের প্রতিটি এন্ট্রি পয়েন্ট, অ্যারাইভাল-ডিপারচার লাউঞ্জ—সবখানেই চলছে কঠোর তল্লাশি। যেন ভালোবাসার শহর ঢাকা আজ রূপ নিয়েছে এক সতর্ক প্রহরীর নগরে, যেখানে প্রতিটি আগমন আর প্রস্থান এখন নিখুঁত পর্যবেক্ষণের গল্প বলে।
বেবিচকের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানালেন, “এখনও সরাসরি কোনো হুমকি পাওয়া যায়নি, কিন্তু ভালোবাসার মতোই নিরাপত্তাও আগে থেকে আগলে রাখতে হয়।” তার কথায় স্পষ্ট—এটি শুধুই প্রতিক্রিয়া নয়, বরং এক ধারাবাহিক প্রস্তুতির অংশ।
অন্যদিকে গোয়েন্দা সূত্রে উঠে এসেছে আরও শিহরণ জাগানো তথ্য। নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি জঙ্গি সংগঠন গোপনে সক্রিয়, তাদের পরিকল্পনার তালিকায় রয়েছে জাতীয় সংসদ, সামরিক স্থাপনা, উপাসনালয় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। গ্রেপ্তার হওয়া এক উগ্রবাদীর সঙ্গে সাবেক সেনা সদস্যদের যোগাযোগের তথ্য যেন রহস্যকে আরও ঘনীভূত করছে।
এই প্রেক্ষাপটে, বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা যেন শুধু দায়িত্ব নয়—এ যেন এক অদৃশ্য যুদ্ধ, যেখানে প্রতিটি প্রহরী দাঁড়িয়ে আছে অজানা বিপদের বিরুদ্ধে, নিঃশব্দ এক ভালোবাসা নিয়ে দেশের প্রতি।
হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এসএম রাগিব সামাদও জানিয়েছেন—বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় সারা দেশের বিমানবন্দরে নেওয়া হয়েছে বাড়তি সতর্কতামূলক ব্যবস্থা।
সব মিলিয়ে, আকাশপথ এখন শুধু যাত্রার নয়—এ যেন নিরাপত্তার এক নীরব কবিতা, যেখানে প্রতিটি চোখ জেগে আছে, প্রতিটি হৃদয় প্রস্তুত।
