ছবি: ফেসবুক থেকে নেওয়া
যুক্তরাষ্ট্রের Florida অঙ্গরাজ্যে নিখোঁজ বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টিকে ঘিরে তৈরি হয়েছে এক হৃদয়বিদারক অধ্যায়। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, স্বপ্নবোনা সেই তরুণী আর বেঁচে নেই—যদিও এখনো তার মরদেহ উদ্ধার করতে পারেনি স্থানীয় পুলিশ।
শনিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম Facebook-এ দেওয়া এক শোকাবহ পোস্টে বৃষ্টির ভাই জাহিদ হাসান প্রান্ত লেখেন, আমার বোন আর নেই। ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন।”—এই সংক্ষিপ্ত বাক্যেই যেন ভেঙে পড়ে এক পরিবারের সমস্ত আশা, সমস্ত অপেক্ষা।

এরই মধ্যে শুক্রবার ফ্লোরিডার স্থানীয় পুলিশের হাতে উদ্ধার হয়েছে আরেক বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী জামিল আহমেদ লিমনের (২৭) ক্ষতবিক্ষত মরদেহ। এই ঘটনায় তার রুমমেট, ২৬ বছর বয়সী সাবেক University of South Florida শিক্ষার্থী হিশাম আবুঘারবিয়াহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—যা পুরো ঘটনাকে আরও রহস্যময় ও শিহরণজাগানিয়া করে তুলেছে।
বৃষ্টির মৃত্যুর বিষয়টি নিয়ে BBC Bangla-এর এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, তার ভাইয়ের বরাতে পুলিশ এখনো মরদেহ না পেলেও সন্দেহভাজনের অ্যাপার্টমেন্টে পাওয়া বিপুল পরিমাণ রক্তের আলামত তাদের এই মর্মান্তিক আশঙ্কার দিকেই ইঙ্গিত করছে।
জাহিদ হাসান প্রান্ত জানান, ভোররাতে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। যদিও বৃষ্টিকে এখনো উদ্ধার করা যায়নি, তবে তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে—এই অন্ধকার রহস্যের পেছনে একই ব্যক্তির ছায়া রয়েছে। তার ভাষায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি আরেকটি মরদেহ সরানোর চেষ্টাও করছিল”—যা ঘটনার গভীরতা ও নির্মমতাকে আরও প্রকট করে তোলে।
একসময় যে স্বপ্ন নিয়ে বিদেশে পাড়ি দিয়েছিলেন নাহিদা সুলতানা বৃষ্টি, সেই স্বপ্ন আজ পরিণত হয়েছে অজানা এক অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া গল্পে। পরিবার, বন্ধু আর স্বজনদের বুকভাঙা অপেক্ষা এখন একটাই প্রশ্নে থমকে—কবে মিলবে শেষ সত্য, কবে ফিরে আসবে বৃষ্টির নিথর দেহ, অন্তত শেষ বিদায়ের জন্য…
পুরো ঘটনাটি এখনো তদন্তাধীন, তবে ইতোমধ্যেই এটি পরিণত হয়েছে এক বেদনাবিধুর, রহস্যঘেরা এবং শোকাবহ বাস্তবতায়—যেখানে ভালোবাসা, স্বপ্ন আর নিষ্ঠুরতার সংঘাতে হারিয়ে গেছে একটি তরুণ প্রাণ।
