বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ। ছবি: ভিডিও থেকে নেওয়া
কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে পাওয়া এক কোটি টাকার অর্থায়ন ঘিরে তুমুল বিতর্কের মুখে পড়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সাবেক সভাপতি রিফাত রশিদ। তবে আত্মসাতের অভিযোগকে ‘ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত’ বলে সরাসরি নাকচ করেছেন তিনি।
শুক্রবার রাতে এক ভিডিও বক্তব্যে রিফাত জানান, সারাদেশে গণভোটের ‘হ্যাঁ ক্যাম্পেইন’ পরিচালনার জন্য এই অর্থ গ্রহণ করা হয়েছিল। তার ভাষায়, “এটি কোনো ব্যক্তিগত লেনদেন নয়, বরং একটি সাংগঠনিক প্রচারণার অংশ।
এর আগে বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনের সামনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের মুখপাত্র সিনথিয়া জাহিন আয়েশা তার বিরুদ্ধে অর্থ তছরুপের অভিযোগ আনেন—যা নতুন করে বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলে দেয়।
রিফাতের দাবি, সংগঠনটি নিবন্ধিত না থাকায় একটি ফাউন্ডেশন গঠন করে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় অর্থ গ্রহণ করা হয়। তিনি আরও জানান, মোট ৫ কোটি টাকার চুক্তি থাকলেও প্রাথমিকভাবে ১ কোটি টাকা ছাড় করা হয় এবং তা নির্ধারিত শর্ত মেনেই ব্যয় করা হয়েছে।
অভিযোগের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক নির্ধারিত অডিট ফার্ম দিয়ে পুরো ব্যয়ের হিসাব যাচাই করা হয়েছে। সেখানে কোনো অনিয়ম পাওয়া যায়নি, বরং আমাদের কাজের প্রশংসা করা হয়েছে।
সিনথিয়া জাহিন আয়েশার প্রসঙ্গ টেনে রিফাত জানান, ফাউন্ডেশন গঠনের শুরুতে তিনি যুক্ত থাকলেও পরবর্তীতে নিজেই সরে দাঁড়ান। এরপর তাকে ছাড়াই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হয়।
সংগঠনের অভ্যন্তরীণ সংকট নিয়েও কথা বলেন রিফাত। তার মতে, পূর্ববর্তী নেতৃত্ব সরে যাওয়ার পর চার মাস সংগঠনটি কার্যত নেতৃত্বশূন্য ছিল। সেই শূন্যতা কাটাতে সংখ্যাগরিষ্ঠ সিদ্ধান্তে একটি উপদেষ্টা প্যানেল গঠন করা হয়, যা ভবিষ্যতের নেতৃত্ব নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।
তবে পুরো ঘটনাকে ‘পরিকল্পিত অপপ্রচার’ আখ্যা দিয়ে রিফাত অভিযোগ করেন, একটি মহল সংগঠনটিকে বিতর্কিত ও নিয়ন্ত্রণে নিতে চায় বলেই এসব অভিযোগ তোলা হচ্ছে।
শেষ পর্যন্ত তিনি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “গত দুই বছরে আমার বিরুদ্ধে এক টাকার দুর্নীতির প্রমাণ দেখাতে পারলে আমি দায় স্বীকার করব। নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তার সতর্ক বার্তা—কোনো এজেন্সির ফাঁদে পা দেবেন না।
সব মিলিয়ে, অর্থায়ন, অডিট, অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগ—সবকিছু মিলিয়ে বিষয়টি এখন শুধু একটি আর্থিক বিতর্ক নয়, বরং রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক টানাপোড়েনের জটিল প্রতিচ্ছবি হয়ে উঠছে।
