শনিবার, ২৫শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১২ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

হত্যা মামলার আসামি মাসুদুর রহমানের ভয়ংকর প্রতারণা সাম্রাজ্য: চাকরির প্রলোভনে শতকোটি টাকা লুট, নিখোঁজ মানুষ, মাদক ও সন্ত্রাসে জর্জরিত রাজধানী

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২৫, ২০২৬ ৪:৪১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলার আসামি হিসেবে অভিযুক্ত প্রতারক মাসুদুর রহমানের ভয়ংকর প্রতারণার জালে আটকা পড়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে শতাধিক পরিবার। চাকরি দেওয়ার মিথ্যা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রামের অসহায় মানুষদের কাছ থেকে তিনি হাতিয়ে নিয়েছেন শতকোটি টাকা—এমন বিস্ফোরক অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

তথ্য সূত্রে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় রাজধানীর বসুন্ধরা ও ভাটারা এলাকায় ছাত্র-জনতার ওপর গুলি চালিয়ে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর অভিযোগও রয়েছে এই মাসুদের বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কাছে জমা থাকা বিভিন্ন তথ্যে উঠে এসেছে তার নৃশংসতা ও অপরাধচক্রের বিস্তৃত চিত্র।

অভিযোগ রয়েছে, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের দোসর হিসেবে পরিচিত মাসুদ নিজেকে প্রভাবশালী প্রমাণ করতে সরকারি আমলা, সেনাবাহিনী ও গোয়েন্দা সংস্থার নাম ভাঙিয়ে চাকরি দেওয়ার নামে প্রতারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তার নিজস্ব ‘মাসেল বাহিনী’ দিয়ে ভয়ভীতি সৃষ্টি করে এই অপকর্ম অব্যাহত রেখেছে সে। চাকরি না দিয়ে উল্টো ভুক্তভোগীদের অর্থ আত্মসাৎ করাই যেন তার নিয়মিত ব্যবসা।

আরও জানা যায়, রাজধানীর অভিজাত এলাকাগুলোতে গড়ে তুলেছে তার মাদক সাম্রাজ্য। মোহাম্মদপুর, ভাটারা, বসুন্ধরা, উত্তরা, শ্যামলী, আদাবর, গাবতলী থেকে শুরু করে গাজীপুর পর্যন্ত বিস্তৃত তার এই নেটওয়ার্ক। প্রতিদিন কোটি কোটি টাকার মাদক সরবরাহের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। প্রশাসনের কেউ বাধা দিতে গেলে তাকে নাজেহাল করা বা প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ উঠেছে।

কেরানীগঞ্জ উপজেলার ফয়সাল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি হিসেবে তার নাম উঠে এসেছে (মামলা নং সি আর ১৮৭০/২৫)। এছাড়াও মানবপাচার চক্রের সঙ্গেও জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অসহায় মানুষদের বিদেশ পাঠানোর কথা বলে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পর অনেককেই মৃত্যুর মুখে ঠেলে দেওয়া হয়েছে।

এরই এক মর্মান্তিক উদাহরণ ভোলার শফিকুল ইসলাম হাসান (৩৮)। ইতালি পাঠানোর নামে লিবিয়া হয়ে সাগরপথে পাঠানোর সময় নিখোঁজ হন তিনি। আজও তার কোনো খোঁজ মেলেনি। তার ছোট সন্তান প্রতিরাতে বাবার জন্য কান্নায় ভেঙে পড়ে। স্ত্রী কাকলির অভিযোগ, ২০ লাখ টাকার চুক্তিতে ৮ লাখ টাকা নেওয়ার পর হাসানকে লিবিয়া পাঠিয়ে দেয় মাসুদ—তারপর থেকেই নিখোঁজ তিনি। যোগাযোগ করলে উল্টো গালিগালাজ ও হত্যার হুমকি দেওয়া হয়।

অভিযোগ আরও আছে, ‘লায়ন মাসুদুর রহমান’ নামে পরিচিত এই ব্যক্তি ঢাকাজুড়ে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা করছেন। তার এই চক্রে নেতৃত্ব দিচ্ছে ‘মুসকান’ নামের এক নারী, যার মাধ্যমে খদ্দেরদের কাছে মাদক সরবরাহের পাশাপাশি ‘হানি ট্র্যাপ’ করে ব্ল্যাকমেইল করে কোটি কোটি টাকা আদায় করা হচ্ছে।

ভুক্তভোগীদের দাবি, তার এই অপরাধচক্রে সহায়তা করছে কিছু অসাধু অবসরপ্রাপ্ত সামরিক ও গোয়েন্দা কর্মকর্তা। ফলে দীর্ঘদিন ধরেই ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছে এই চক্র।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মাসুদ নিজেকে “টুকটাক ব্যবসায়ী” দাবি করে বলেন, বিদেশে লোক পাঠাই, কিছু সরকারি চাকরিও পাইয়ে দেই—এবং বিষয়টি নিয়ে বেশি না ঘাঁটানোর হুমকি দিয়ে ফোন কেটে দেন।

এদিকে, তার লাগামহীন অপরাধকাণ্ডে আতঙ্কিত ভুক্তভোগীরা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানিয়েছেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।