ছবি: সংগৃহীত
রাষ্ট্রীয় নীতির নীরব প্রেক্ষাপটে যেন এক বড় পরিবর্তনের সুর—জাতীয় সংসদে পাস হলো এমন এক বিল, যা বদলে দেবে এমপিদের দীর্ঘদিনের একটি সুবিধার ইতিহাস। শুল্কমুক্ত গাড়ি আমদানির সুযোগ—যা একসময় ছিল ক্ষমতার এক বিশেষ প্রতীক—তা আজ বিলুপ্তির পথে।
রোববার বিকেলে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ-এর সভাপতিত্বে শুরু হওয়া সংসদ অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান উত্থাপন করেন ‘দ্যা মেম্বারস অব পার্লামেন্ট (রেম্যুনিউরেশন অ্যান্ড অ্যালাউন্সেস) অর্ডার’ সংশোধনী বিল। কোনো সংশোধনী ছাড়াই, কোনো আলোচনার ঢেউ না তুলেই—কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়ে যায়। যেন নিঃশব্দে বদলে গেল এক পুরনো অধ্যায়।
বিলটি পাসের মাধ্যমে বিদ্যমান আইনের ৩সি ধারা বিলুপ্ত করা হয়েছে। এই ধারার মধ্যেই লুকিয়ে ছিল সেই সুবিধা—একজন সংসদ সদস্য তার মেয়াদকালে শুল্কমুক্তভাবে একটি গাড়ি, জিপ বা মাইক্রোবাস আমদানি করতে পারতেন। এমনকি পাঁচ বছর পর আবার নতুন করে একই সুযোগও ছিল তার হাতে। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে, রাজনৈতিক প্রতিশ্রুতির আবেগে—সরকারি ও বিরোধী দল আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, তারা আর এই সুবিধা নেবেন না। আজ সেই ঘোষণারই আইনি রূপ পেল সংসদের মেঝেতে।
বিদ্যুৎ সংকট মোকাবিলায় বিশেষ কমিটি: আশার নতুন আলো- একই অধিবেশনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত—দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি সামাল দিতে গঠন করা হয়েছে ১০ সদস্যের একটি বিশেষ কমিটি। বিরোধী দলের প্রস্তাবে শুরু হওয়া এই উদ্যোগে সম্মতি দিয়েছে উভয় পক্ষই—যেন সংকটের মাঝেও ঐক্যের এক মৃদু আলো।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম সংসদে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রস্তাব উত্থাপন করলে তা সর্বসম্মতিক্রমে পাস হয়। ৩০ দিনের মধ্যে সুপারিশ দেওয়ার দায়িত্ব নিয়ে কাজ শুরু করবে এই কমিটি।
কমিটিতে রয়েছেন জ্বালানীমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, হুইপ এবিএম আশরাফ উদ্দিন, মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, এবং উভয় দলের আরও বেশ কয়েকজন অভিজ্ঞ সংসদ সদস্য।
সংসদের এই দিনের সিদ্ধান্তগুলো যেন কেবল আইন পাস নয়—বরং এক নতুন রাজনৈতিক সংস্কৃতির ইঙ্গিত। ক্ষমতার সুবিধা থেকে সরে এসে দায়বদ্ধতার পথে হাঁটার গল্প, আর সংকটের মুখে একসাথে সমাধান খোঁজার প্রতিশ্রুতি।
এ যেন রাজনীতির কঠিন বাস্তবতার মাঝেও একটু নরম আলো—পরিবর্তনের, প্রতিশ্রুতির, আর ভবিষ্যতের।
