সোমবার, ২৭শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১৪ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

দলিলের কালিতে প্রেম না প্রতারণা? ভোলার জেলা রেজিস্ট্রার নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে ৫০ কোটির রহস্যঘেরা সাম্রাজ্যের অভিযোগ

ভোলা প্রতিনিধি
এপ্রিল ২৬, ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ণ
Link Copied!

নীরব আকাশের নিচে যেন জমে উঠেছে এক অদৃশ্য গল্প—ক্ষমতা, প্রভাব আর অভিযোগের জটিল এক বুনন। জেলা রেজিস্ট্রার নূর নেওয়াজের বিরুদ্ধে উঠেছে বিস্ময় জাগানো অভিযোগ—অবৈধ সম্পদ, দলিল জালিয়াতি এবং রাজস্ব ফাঁকির এক দীর্ঘ ছায়া, যার বিস্তার নাকি প্রায় ৫০ কোটি টাকার সাম্রাজ্যজুড়ে।

অভিযোগের শুরুটা যেখানে…২০০৪ সালে পাবলিক সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে সাব-রেজিস্ট্রার হিসেবে যাত্রা শুরু। সেই পথ চলা যেন ধীরে ধীরে ক্ষমতার সিঁড়ি বেয়ে উঠে আজকের অবস্থানে। অভিযোগকারীদের দাবি—এই দীর্ঘ সময়জুড়ে দলিলের পাতায়, সইয়ের রেখায় আর অদৃশ্য লেনদেনে তৈরি হয়েছে এক অদেখা অর্থের নদী।

ক্ষমতার ছায়া, প্রভাবের গল্পশোনা যায়, প্রভাবশালী মহলের ঘনিষ্ঠতা ছিল তার ঢাল। সেই ছায়াতেই নাকি এড়িয়ে গেছেন জবাবদিহির কঠিন প্রশ্ন। দলিল জালিয়াতি, ভুয়া লাইসেন্স, নকল নবিস ও কাজী নিয়োগ—অভিযোগের তালিকা যেন একেকটি অধ্যায়, যেখানে বাস্তব আর রহস্য মিশে গেছে অদ্ভুতভাবে।

দলিলের ভেতর লুকানো গল্পশেরপুরে দায়িত্ব পালনকালে অভিযোগ আরও গাঢ় হয়। খতিয়ান বদলে যাওয়া, দাগ নম্বরের অদলবদল, এমনকি রাসায়নিক দিয়ে পুরনো লেখা মুছে নতুন সত্য বসানোর গল্প—সব মিলিয়ে যেন দলিলের পাতায় লেখা হয়েছে এক অদ্ভুত নাটক। এই নাটকের পরিণতিতে বদলে গেছে জমির মালিকানা, তৈরি হয়েছে ভুয়া নামজারি—আর সাধারণ মানুষ হয়েছেন বিভ্রান্ত, কখনো অসহায়।

অর্থের স্রোত ও রাজস্বের ক্ষয়অভিযোগ অনুযায়ী, এই জটিল প্রক্রিয়ায় শুধু ব্যক্তিগত সম্পদই বাড়েনি—সরকারও হারিয়েছে উল্লেখযোগ্য রাজস্ব। সংখ্যাটা স্পষ্ট নয়, কিন্তু অভিযোগকারীদের ভাষায়—এটা শুধু টাকা নয়, এটি একটি ব্যবস্থার ক্ষয়।

সম্পদের বিস্তৃত ক্যানভাসদেশের বিভিন্ন জেলায় ছড়িয়ে থাকা জমি—প্রায় দুই হাজার শতক। চারটি ফ্ল্যাট, একটি রাইস মিল, একটি দুইতলা বাড়ি, বিলাসবহুল গাড়ি আর ব্যাংকের নীরব সঞ্চয়—সব মিলিয়ে যেন এক অদেখা সাম্রাজ্যের ছবি আঁকা হয়েছে।জামালপুর, টাঙ্গাইল, ময়মনসিংহ, ঢাকায় ছড়িয়ে থাকা এই সম্পদের গল্পে রয়েছে পারিবারিক নাম, আবার রয়েছে বেনামি ছায়াও।

ভয়ের আবরণে নীরবতাঅনেকেই জানেন, অনেকেই দেখেছেন—কিন্তু বলছেন না। অভিযোগকারীদের দাবি, প্রভাবের ভয়ে মুখ খুলতে সাহস পান না অনেকে। হুমকি আর চাপের অদৃশ্য দেয়াল যেন আটকে রাখছে সত্যের কণ্ঠস্বর।

আইন ও বাস্তবতার মাঝখানে প্রশ্নগণমাধ্যমে এসেছে একাধিক প্রতিবেদন, আদালতের দরজাও নাকি কড়া নাড়ছে কিছু অভিযোগ। কিন্তু এখনো স্পষ্ট নয় সরকারি অবস্থান।এই নীরবতা যেন প্রশ্ন তোলে—সত্য কি সামনে আসবে?

মানুষের প্রত্যাশাভোলার সচেতন মানুষ চান স্বচ্ছতা, চান নিরপেক্ষ তদন্ত। তাদের বিশ্বাস—দুর্নীতির বিরুদ্ধে ঘোষিত ‘জিরো টলারেন্স’ শুধু কথায় নয়, বাস্তবেও প্রমাণিত হোক। তবে বর্তমানে বাংলাদেশে সরকারও এ নীতি বাস্তবায়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া হিসেবে দেখছেন।

শেষ কথাএই গল্প এখনো শেষ হয়নি। অভিযোগ আর বাস্তবতার মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে তদন্তের অপেক্ষা।কারণ, সত্য সবসময়ই নিজের পথ খুঁজে নেয়—কখনো ধীরে, কখনো বিস্ফোরণের মতো।

আবার সচেতন মহলের দাবি, ধীরে হলেও সরকার অপরাধীদের মুখোশ উন্মোচন করে আইনের আওতায় আনা সময়ের অপেক্ষা মাত্র। যতই নীরবতা পালন করেননা কেন সত্য বেড়িয়ে আসবে।

তবে এখনো পর্যন্ত নূর নেওয়াজ বা তার পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। তবে নীরবতা রহস্য মানে-কি দোষ স্বীকার না দায়মুক্তি। এমনটাই ভাবিয়ে তুলেছে নেটিজেনদের।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।