গাজীপুরের পূবাইলের এক নির্জন রাতে হঠাৎ করেই নেমে আসে আতঙ্কের ছায়া। মেঘডুবী এলাকার নিস্তব্ধতা ভেঙে রক্তাক্ত অবস্থায় এক নারীর নিথর দেহ—যেন এক অজানা কাহিনির করুণ পরিণতি। সেই দেহটি আর কেউ নয়, বাড়ির মালিক কুনসুম আক্তার।
রোববার রাতে পূবাইলের মেঘডুবী এলাকায় আনোয়ার পলিমার কারখানার পাশে নিজের বাড়িতে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায় তাকে। স্থানীয়দের চোখে ধরা পড়ে সেই বিভীষিকাময় দৃশ্য—একটি নিঃশব্দ ঘর, আর সেখানে রক্তে রঞ্জিত এক জীবনের শেষ অধ্যায়। মুহূর্তেই খবর পৌঁছে যায় পুলিশের কাছে। গাজীপুর মেট্রোপলিটন পূবাইল থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহত কুনসুম আক্তার, মৃত আফতাবউদ্দিনের মেয়ে। জীবনের এক কঠিন অধ্যায় পেরিয়ে তিনি একাই লড়াই করছিলেন—কয়েক বছর আগে স্বামীর সাথে বিচ্ছেদের পর এই বাড়িতেই একাকী বসবাস করতেন। নিজের পায়ের ওপর দাঁড়াতে ছোট্ট একটি মুদি দোকান চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন তিনি। নিঃসঙ্গতার ভেতরেও ছিল বেঁচে থাকার এক নীরব সংগ্রাম, এক অদেখা সাহস।
কিন্তু সেই সংগ্রামের গল্প থেমে গেল হঠাৎ করেই—রক্তাক্ত এক রাতে। এলাকাবাসীর মনে এখন একটাই প্রশ্ন—এই মৃত্যু কি শুধুই একটি দুর্ঘটনা, নাকি ভালোবাসা ভাঙনের অতীত, ব্যক্তিগত শত্রুতা কিংবা অজানা কোনো অন্ধকার গল্পের নিষ্ঠুর পরিণতি?
পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, এটি একটি হত্যাকাণ্ড। মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিক্যাল কলেজে পাঠানো হয়েছে।
তদন্তের পরই স্পষ্ট হবে এই রক্তাক্ত মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য।
এদিকে, কুনসুম আক্তারের নিঃসঙ্গ জীবনের শেষ অধ্যায় যেন এখনো কথা বলে—একটি ভাঙা সম্পর্ক, একা লড়াই, আর শেষ পর্যন্ত এক অজানা অন্ধকারে হারিয়ে যাওয়া। পূবাইলের বাতাসে এখন শুধু প্রশ্ন ভাসে—এই গল্পের নেপথ্যে আসল সত্যটা কী?
