ফাইল ছবি: ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কখনো সহমর্মিতার মায়াজালে বাঁধা সহকর্মিতা, আবার কখনো সামান্য ভুল বোঝাবুঝিতেই সেই সম্পর্ক ভেঙে পড়ে তীব্র সংঘাতে—এমনই এক নাটকীয়, বেদনাদায়ক ঘটনার জন্ম হলো পিরোজপুরের জিয়ানগরে।
রোববার (২৬ এপ্রিল) দুপুরের নীরবতা ভেঙে, উপজেলা সদরের ১৩ নম্বর ইন্দুরকানী মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের অফিস কক্ষে ঘটে যায় এক অপ্রত্যাশিত দৃশ্য। যেখানে পাঠদানের কোমল পরিবেশ হঠাৎ রূপ নেয় উত্তেজনা, ক্ষোভ আর আঘাতের নির্মম মঞ্চে।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনায় জানা যায়, দুপুর প্রায় ১টার দিকে শিক্ষার্থীদের খেলার জার্সি খুঁজে না পাওয়া নিয়ে সহকারী শিক্ষিকা আসমা আক্তার ও হালিমা সুলতানার মধ্যে শুরু হয় তর্ক-বিতর্ক। কথার তীর ধীরে ধীরে হয়ে ওঠে তীক্ষ্ণ, উত্তপ্ত—আর সেই উত্তাপেই মুহূর্তেই ভেঙে যায় সংযমের বাঁধ।
একপর্যায়ে সেই বাকবিতণ্ডা রূপ নেয় হাতাহাতিতে। অভিযোগ রয়েছে, আবেগের বিস্ফোরণে আসমা আক্তার হাতে তুলে নেন বেত—যে বেত সাধারণত শাসনের প্রতীক, সেটিই হয়ে ওঠে আঘাতের অস্ত্র। কয়েক দফা আঘাতে আহত হন হালিমা সুলতানা। অফিস কক্ষে উপস্থিত অন্যান্য শিক্ষক-শিক্ষিকা ও অভিভাবকরা তখন এই অস্বস্তিকর দৃশ্যের নীরব সাক্ষী।
স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, অভিযুক্ত শিক্ষিকা আসমা আক্তারের বিরুদ্ধে এর আগেও অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছিল। কখনো সহকর্মীর প্রতি কঠোর আচরণ, কখনো রাগের বশে সীমা লঙ্ঘনের চেষ্টা—এই ঘটনাও যেন সেই ধারাবাহিকতারই এক তীব্র প্রকাশ।
তবে ঘটনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকা হালিমা সুলতানা নীরবতাকেই বেছে নিয়েছেন। কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি তিনি—যেন নিজের ব্যথা নিজের মধ্যেই লুকিয়ে রাখতে চেয়েছেন।
অন্যদিকে আসমা আক্তারের দাবি, কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে হালিমা সুলতানা আমাকে মারতে এলে আমি আত্মরক্ষার্থে পাল্টা আঘাত করি। তার এই বক্তব্য যেন ঘটনাটিকে আরেকটি ভিন্ন আলোয় তুলে ধরে—যেখানে সত্য আর প্রতিরক্ষার সীমারেখা হয়ে ওঠে অস্পষ্ট।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সেকান্দার আলী খান ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানিয়েছেন, বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।
জিয়ানগর উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল বাশার বলেন, আমরা মৌখিকভাবে বিষয়টি জেনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এই ঘটনাটি শুধু একটি মারধরের ঘটনা নয়—এটি সহমর্মিতা, সহনশীলতা আর পেশাগত সম্পর্কের ভাঙনের এক নীরব কাহিনি। যেখানে এক মুহূর্তের উত্তেজনা ছিন্নভিন্ন করে দেয় বিশ্বাসের বন্ধন, আর রেখে যায় অস্বস্তি, প্রশ্ন আর এক অদৃশ্য ক্ষতের দাগ।
