ফাইল ছবি
আগামী অক্টোবর মাসকে লক্ষ্য করে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যালট বাক্স, ভোটার তালিকা, প্রিজাইডিং অফিসার ও পোলিং অফিসার প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে নির্বাচন পরিচালনায় ব্যয় কমানোর উপায়ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
রোববার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে অনুষ্ঠিত ইসির দীর্ঘ বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে সার্বিক প্রস্তুতি, আচরণবিধি, ভোটকেন্দ্র বৃদ্ধি, নির্বাচনী সরঞ্জাম ও প্রশাসনিক প্রস্তুতিসহ নানা বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। সকাল ১১টা থেকে বিকেল পৌনে ৪টা পর্যন্ত চলা বৈঠকে চার নির্বাচন কমিশনার, ইসির জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অক্টোবর লক্ষ্য, তফসিল ৪৫ দিন আগে
বৈঠক শেষে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ সাংবাদিকদের জানান, অক্টোবরেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন আয়োজনের লক্ষ্য নিয়েই এগোচ্ছে কমিশন। সে অনুযায়ী নির্বাচন হলে প্রায় ৪৫ দিন আগে তফসিল ঘোষণা করা হবে।
তিনি বলেন, প্রায় ৪ হাজার ৫০০ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন নির্বাচন আগে এবং কোনটি পরে হবে, সেটিও কমিশনের আলোচনায় এসেছে। তবে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
আচরণবিধি চূড়ান্তে অংশীজনের মতামত
বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের আইন-কানুন ও আচরণবিধির খসড়া নিয়েও আলোচনা হয়েছে। পাঁচ ধরনের স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রস্তুত করা খসড়া আচরণবিধি ইতোমধ্যে ইসির ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে মতামত আহ্বান করে পৃথক চিঠিও পাঠানো হয়েছে, যার শেষ সময় ৩০ জুন।
অংশীজনদের মতামত পাওয়ার পর প্রায় ১৫ দিনের মধ্যেই আচরণবিধি চূড়ান্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার। তিনি বলেন, রাজনৈতিক দল ছাড়াও সাংবাদিকসহ যে কেউ মতামত দিতে পারবেন এবং গ্রহণযোগ্য প্রস্তাবগুলো খসড়ায় সংযোজন করা হবে।
ভোটকেন্দ্র বাড়তে পারে, শিক্ষক নিয়োগ নিয়েও আলোচনা
ইসি জানিয়েছে, স্থানীয় সরকার নির্বাচন হওয়ায় ভোটকেন্দ্র ও ভোটকক্ষের সংখ্যা কিছুটা বাড়তে পারে। পাশাপাশি বেসরকারি ও এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের ভোটগ্রহণের দায়িত্বে যুক্ত করার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
নির্দলীয় নির্বাচন, তবু রাজনৈতিক দলের মতামত গুরুত্বপূর্ণ
নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, এবারের স্থানীয় সরকার নির্বাচন হবে নির্দলীয়, অর্থাৎ দলীয় প্রতীক থাকবে না। তবে রাজনৈতিক দলগুলো সমাজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হওয়ায় তাদের মতামতকে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন। সে কারণেই রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে মতামত চাওয়া হয়েছে।
ইসির ওয়েবসাইটও পাচ্ছে আধুনিক রূপ
এদিকে নির্বাচন কমিশনের বর্তমান ওয়েবসাইটকে আরও আধুনিক, নিরাপদ ও কার্যকর করতে রিডিজাইন ও ডেভেলপমেন্টের কাজ চলছে। এ লক্ষ্যে সোমবার দুপুর আড়াইটায় নির্বাচন ভবনে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একটি সভা অনুষ্ঠিত হবে।
সভায় ওয়েবসাইটের ফাংশনালিটি, সিকিউরিটি ও লোড টেস্টিং নিয়ে আলোচনা হবে। এতে নির্বাচন কমিশনের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি বুয়েট এবং ওয়েবসাইট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান রাইজআপ ল্যাবসের প্রতিনিধিরাও অংশ নেবেন।
সব মিলিয়ে, স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রশাসনিক, কারিগরি ও আইনগত প্রস্তুতি একসঙ্গে এগিয়ে নিচ্ছে নির্বাচন কমিশন। এখন রাজনৈতিক দলগুলোর মতামত ও কমিশনের চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের দিকেই নজর সংশ্লিষ্ট সবার।
