হুমায়ুন কবির। ফাইল ছবি
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির বলেছেন, অনুকূল পরিবেশ ও প্রয়োজন সৃষ্টি হলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভারত সফরে যাবেন। বাংলাদেশের বিদেশ সফরের সিদ্ধান্ত এখন থেকে সম্পূর্ণভাবে জাতীয় স্বার্থ, সময়োপযোগী প্রয়োজন এবং দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে। কোনো দেশ কখন সফর করা হবে, তা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না।
শনিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
হুমায়ুন কবির বলেন, বর্তমান সরকার একটি পূর্ণাঙ্গ সার্বভৌম পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করছে। বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলা হচ্ছে বাস্তব প্রয়োজন ও জাতীয় অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে, কোনো বাহ্যিক চাপের কারণে নয়।
তিনি বলেন, কোনো দেশে যাব, তা আমরা তখনই নির্ধারণ করব, যখন মনে করব সংশ্লিষ্ট দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বোঝাপড়ার ভিত্তিতে সেখানে যাওয়া প্রয়োজন।
যুক্তরাষ্ট্র, চীন ও ভারতের মতো প্রভাবশালী দেশগুলোতে সম্ভাব্য সফর নিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার প্রয়োজন হবে, তখন যাব। যখন চীন যাওয়ার দরকার হবে, আমরা সেখানে যাব। সময় ও পরিস্থিতি অনুকূল হলে এবং প্রয়োজন হলে আমরা ভারতেও যাব। মধ্যপ্রাচ্যেও সফর হবে। সবকিছুই জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে নির্ধারিত হবে।
তিনি আরও বলেন, আমরা কোথায় যাব, সেটা অন্য কেউ নির্ধারণ করবে না। কারণ আমরা বৈধ সরকার, জনগণের ম্যান্ডেটপ্রাপ্ত সরকার। আমরা এখন শক্ত অবস্থান থেকে কথা বলতে পারি, দর-কষাকষি করতে পারি। গত ১৫ বছরে কোনো সরকার তা পারেনি, কারণ জনগণের আস্থা ও বৈধতা তাদের ছিল না।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি কোনো একক দেশ বা বাইরের বয়ান দ্বারা প্রভাবিত নয় উল্লেখ করে হুমায়ুন কবির বলেন, কেউই আমাদের বলে দেবে না কখন বা কোথায় আমাদের যেতে হবে।
তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ এখন একটি স্বাধীন বৈশ্বিক খেলোয়াড় হিসেবে কাজ করছে এবং জাতীয় স্বার্থকে কেন্দ্র করে ‘সফট পাওয়ার’ বৃদ্ধির দিকে বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে।
উপদেষ্টা বলেন, গত কয়েক বছরে পরাধীনতার নীতি দেখেছেন। এখন আমরা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্বাধীন অবস্থান থেকে কাজ করছি।
মালয়েশিয়া ও চীন সফরের সিদ্ধান্ত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই সফরগুলো পরিকল্পিতভাবে নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সেগুলো সফল হবে বলে সরকার আশাবাদী।
মালয়েশিয়া সফরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, মুসলিমপ্রধান দেশ হিসেবে এটি বাংলাদেশের প্রথম দিকের গুরুত্বপূর্ণ সফরগুলোর একটি। এ সফরে আসিয়ান সদস্যপদ, শ্রমবাজার সম্প্রসারণ এবং পারস্পরিক সহযোগিতার বিষয়গুলো গুরুত্ব পাবে। অন্যদিকে, চীন বাংলাদেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অংশীদার।
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধার প্রসঙ্গে হুমায়ুন কবির বলেন, এটি বর্তমানে সরকারের অন্যতম শীর্ষ অগ্রাধিকার। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক অংশীদারের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ চলছে।
বার্তা স্পষ্ট—বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন ‘জাতীয় স্বার্থ আগে’ নীতিতে পরিচালিত হবে এবং বৈশ্বিক সম্পর্ক নির্ধারিত হবে দেশের নিজস্ব কৌশল ও প্রয়োজনের ভিত্তিতে।
