বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৫ আসামি
নগরীর নিস্তব্ধ গভীর রাত, প্রিয়জনের সঙ্গে শেষ কথোপকথন—সবকিছু যেন স্বাভাবিকই ছিল। কিন্তু সেই রাতই হয়ে ওঠে এক নির্মম পরিণতির গল্প। কাস্টমস কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৫ আসামির মধ্যে ৪ জন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। অপর এক আসামিকে ৩ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।
সোমবার বিকেলে গ্রেপ্তারকৃতদের কুমিল্লার চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোপর্দ করা হলে সন্ধ্যায় বিচারক আবিদা সুলতানা মলির সামনে চার আসামি একে একে খুলে দেন সেই ভয়াল রাতের পর্দা—স্বীকার করেন হত্যার দায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, স্বীকারোক্তি দেওয়া আসামিরা হলেন—ধর্মপুর এলাকার মো. সোহাগ (৩৪), মো. সুজন (৩২), আড়াইওড়া এলাকার রাহাত হোসেন জুয়েল (২৭) এবং আমড়াতলী গ্রামের এমরান হোসেন ওরফে হৃদয় (৩৪)। তবে নীরব থেকেছেন সিএনজি চালক ইসমাইল হোসেন জনি (২৮)। তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হলে আদালত ৩ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
বুলেট বৈরাগী—একটি নাম, যার সঙ্গে জড়িয়ে আছে দায়িত্ব, স্বপ্ন আর ভালোবাসা। গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ার ডুমুরিয়া গ্রামের এই মানুষটি কর্মরত ছিলেন কুমিল্লার বিবিরবাজার স্থলবন্দরে সহকারী রাজস্ব কর্মকর্তা হিসেবে। সম্প্রতি চট্টগ্রামে ৪৪তম বুনিয়াদি প্রশিক্ষণ শেষে ফিরছিলেন কর্মস্থলে, জীবনের নিয়মিত ছন্দে।
সেই শুক্রবার রাত—স্ত্রীর সঙ্গে দীর্ঘ ফোনালাপ, ভালোবাসায় ভরা কিছু সাধারণ কথা, হয়তো ভবিষ্যতের ছোট ছোট স্বপ্ন। কিন্তু কে জানত, সেটাই হবে শেষ কথা?
রাত আড়াইটার দিকে কুমিল্লা নগরীর ঝাগুরঝুলি এলাকায় পৌঁছে যাত্রী সেজে থাকা ছিনতাইকারীদের সঙ্গে একই সিএনজিতে ওঠেন তিনি। মুহূর্তেই বদলে যায় দৃশ্যপট—অস্ত্রের মুখে ছিনিয়ে নেওয়া হয় মোবাইল, টাকা, ব্যাগ। তারপর নির্মম মারধর। আহত অবস্থায় রাস্তায় ফেলে রেখে যায় দুর্বৃত্তরা। মাথায় গুরুতর আঘাতে ঘটনাস্থলেই নিভে যায় একটি প্রাণ, থেমে যায় একটি পরিবারের সব আলো।
পরদিন সকালে হাইওয়ে পুলিশ উদ্ধার করে তার নিথর দেহ।
সদর দক্ষিণ মডেল থানার ওসি সিরাজুল মোস্তফা জানিয়েছেন, মামলার ৫ আসামির মধ্যে ৪ জন ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তি দিয়েছেন, আরেকজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।
একটি রাত, একটি ভুল সিদ্ধান্ত, আর কিছু নিষ্ঠুর মানুষ—সবকিছু মিলিয়ে শেষ হয়ে গেল একটি জীবন। রেখে গেল ভালোবাসার অসমাপ্ত গল্প, আর এক গভীর শোকের ছায়া।
