প্রতীকী ছবি
রাজধানীর তুরাগে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কার্যালয় থেকে কামরুন নাহার (২৮) নামে এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার বিকেলে তাঁর লাশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ মর্গে পাঠানো হয়। মৃত্যুর কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে স্বজনের অভিযোগ, কামরুন নাহারকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
মৃতের দেবর জেমস হামিম জানান, তুরাগের নলভোগ এলাকায় স্বামী মনিরুল ইসলামের সঙ্গে বসবাস করতেন কামরুন নাহার। তিনি স্থানীয় রূপায়ণ সিটিসংলগ্ন এলাকায় অবস্থিত তাসমি ইন্টারন্যাশনাল নামে একটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন। প্রতিষ্ঠানটি কাঁকড়া ও কুঁচে মাছ বিদেশে রপ্তানি করে।
সোমবার সকাল ৯টার দিকে কর্মস্থলে যান কামরুন। কিন্তু মাত্র এক ঘণ্টার ব্যবধানে অফিসের রান্নাঘরে মিলল তাঁর ঝুলন্ত মরদেহ। পরিবারের দাবি, প্রতিষ্ঠানের মালিক শিশির চন্দ্র হাওলাদারের সঙ্গে কোনো বিরোধের জেরেই এ মৃত্যু।
জেমস হামিমের ভাষ্য, ঘটনার পর শিশির পুলিশের কাছে প্রায় ৪০ হাজার টাকা ও কিছু স্বর্ণালঙ্কার জমা দেন। দাবি করা হয়, এগুলো নাকি কামরুন নাহারের ছিল। কিন্তু কেন তিনি নিজের টাকা-গহনা মালিকের কাছে রাখবেন— সেই প্রশ্ন তুলেছেন স্বজনরা। তাদের অভিযোগ, এটি আত্মহত্যা নয়, বরং রহস্যে ঘেরা একটি হত্যাকাণ্ড।
অন্যদিকে প্রতিষ্ঠানটির মালিক শিশির চন্দ্র হাওলাদার সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, ঘটনার সময় তিনি সেখানে ছিলেন না। খবর পেয়ে অফিসে যান। পুলিশ দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
শিশির আরও জানান, কামরুন নাহার মৃত্যুর আগে প্রতিষ্ঠানের ১৫ বছর বয়সী কর্মচারী সাগরের সঙ্গে আবেগঘন কিছু কথা বলেন। নিজের স্কুলপড়ুয়া মেয়ের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সাগরকে কিছু টাকা ও গহনা দিয়ে যান বলেও দাবি করেন তিনি। পরে কর্মচারীরা খাবার খেতে গিয়ে রান্নাঘরের দরজা বন্ধ দেখতে পান। এক পর্যায়ে এক্সহস্ট ফ্যানের ফাঁক দিয়ে তাঁকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখা যায়।
তুরাগ থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, এখন পর্যন্ত হত্যার স্পষ্ট কোনো আলামত পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় একটি অপমৃত্যু (ইউডি) মামলা নেওয়া হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে হত্যার প্রমাণ মিললে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
