শুক্রবার, ২১শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৬ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ইস্কনের নামে রশিদ ছাপিয়ে অর্থ আদায়, জমি রেজিস্ট্রিতে জালিয়াতির অভিযোগ

হারুন অর রশীদ
আগস্ট ২১, ২০২৬ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

খোকসায় ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র নামে জমি রেজিস্ট্রি, ইস্কন কর্তৃপক্ষের দাবি—লিখিত অনুমতি নেই।অনুসন্ধান পর্ব-১

কুষ্টিয়ার খোকসায় ইস্কন মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে অনুদান সংগ্রহ এবং পরে নিয়মবহির্ভূতভাবে জমি রেজিস্ট্রি করার অভিযোগ উঠেছে। ইস্কনের নাম ব্যবহার করে নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে অর্থ সংগ্রহ এবং সংগঠনের অনুমোদন ছাড়া জমি কেনার অভিযোগে রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলার কলিমোহর মহাবিদ্যালয়ের ইংরেজি প্রভাষক শুভেন্দু বিকাশ সরকার ওরফে শুভর বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন আমেরিকা প্রবাসী উদ্যোক্তা ও কুষ্টিয়া জেলা ইস্কন কর্তৃপক্ষ।

ইস্কন খোকসা মন্দিরের উদ্যোক্তা ও আমেরিকা প্রবাসী নিধি গৌর দাস গত ১৮ আগস্ট তার ফেসবুক আইডি ‘Nidhi Das’ থেকে দেওয়া এক পোস্টে অভিযোগ করেন, মন্দির নির্মাণের কথা বলে ভক্তদের কাছ থেকে প্রায় ৬০ লাখ টাকা অনুদান সংগ্রহ করা হয়। কিন্তু নিয়ম অনুসরণ না করে মোট ১০ শতাংশের বেশি জমির মধ্যে মাত্র ২.২ শতাংশ জমি নিবন্ধনবিহীন সংগঠন ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘ’-এর নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

তার দাবি, ওই দলিলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার নিজেই স্বাক্ষর করে নিজেকে ‘পরিচালক’ হিসেবে দাবি করেছেন।

বাকি জমি দুই সহযোগীর নামে—অভিযোগ

নিধি গৌর দাসের অভিযোগ, বাকি প্রায় ৮ শতাংশ জমি শুভেন্দু বিকাশ সরকারের দুই সহযোগী ড. হরগোবিন্দ ও শংকপানির নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে।

তিনি আরও দাবি করেন, কেন্দ্রীয় ইস্কনের অনুমোদন কিংবা সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর ছাড়াই জমি কেনার এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছে। ফলে আইনগতভাবে ওই জমির সঙ্গে ইস্কনের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তবে অভিযোগের বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন ‘শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘে’র কোষাধ্যক্ষ শংকপানী দাস। তিনি দাবি করেন, ইস্কন জেলা কমিটির সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বিষয়টি জানতেন এবং তাঁর অনুমতিতেই এসব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

‘অনুমতি দেওয়ার এখতিয়ার আমার নেই’

শংকপানী দাসের বক্তব্যের বিষয়ে জানতে চাইলে ইস্কন কুষ্টিয়া মন্দিরের সভাপতি বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী বলেন, “আমি কোনো অনুমতি দেওয়ার মালিক নই। সব বিষয়ে অনুমোদন দেওয়ার এখতিয়ার কেবল ঢাকা ইস্কন হেড অফিসের।

তিনি আরও বলেন, হেড অফিসের কোনো লিখিত অনুমতিপত্র তাদের কাছে রয়েছে কি না, সেটি সংশ্লিষ্টদের কাছেই জানতে হবে।

পরে সাংবাদিকরা কোষাধ্যক্ষ শংকপানী দাসের কাছে ওই লিখিত অনুমতিপত্র দেখতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

‘পুরো ঘটনাই প্রতারণা’

বৈষ্ণবানন্দ দাস ব্রহ্মচারী পুরো ঘটনাকে ‘প্রতারণা’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তাঁর ভাষ্য, “ইস্কনে ‘পরিচালক’ বলে কোনো পদ নেই। শুভ নিয়মবহির্ভূতভাবে কারও অনুমতি ছাড়া নিজস্ব রশিদ ছাপিয়ে টাকা তুলেছেন। কেন্দ্রীয় কমিটি বা আমাকে না জানিয়ে গোপনে শ্রী শ্রী জগন্নাথ নামহট্ট সংঘের নামে জমিটি কেনা হয়, যেখানে ইস্কনের নামও রাখা হয়নি।

তিনি আরও অভিযোগ করেন, বিষয়টি জানতে চাইলে শুভেন্দু বিকাশ সরকার তাঁর সঙ্গে অত্যন্ত খারাপ আচরণ করেন।

সাংবাদিকদের প্রশ্নে এড়িয়ে গেলেন, পরে মিলল না যোগাযোগ

অভিযোগের বিষয়ে শুভেন্দু বিকাশ সরকারের বক্তব্য জানতে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। খোকসা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে তিনি সাংবাদিকদের সামনে এলেও কাজের কথা বলে দ্রুত স্থান ত্যাগ করেন। পরে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

স্থানীয় কিছু মাধ্যমে বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

পরবর্তীতে শুভেন্দু বিকাশ সরকার (শুভ) মুঠোফোনে সাংবাদিকদের জানান, পরের দিন তিনি সংশ্লিষ্ট সব প্রমাণপত্র দেখাবেন। কিন্তু নির্ধারিত দিনে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা এবং তাঁর এলাকায় গিয়ে খোঁজ করেও তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

তদন্ত ও প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের দাবি

ধর্মীয় বিশ্বাস ও ভক্তদের আস্থার সুযোগ নিয়ে অনুদানের অর্থ ও জমি নিয়ে কোনো অনিয়ম হয়ে থাকলে তার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় ভক্ত ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।

তাদের বক্তব্য, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করে কোনো ধরনের প্রতারণা বা অনিয়ম হলে ক্ষতির পরিমাণ শুধু অর্থের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; এতে সাধারণ মানুষের ধর্মীয় ও সামাজিক আস্থাও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা, জমি রেজিস্ট্রির নেপথ্যের প্রক্রিয়া, অনুদানের অর্থের হিসাব এবং সংশ্লিষ্টদের ভূমিকা—এসব বিষয়ে অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। বিস্তারিত থাকছে পরবর্তী প্রতিবেদনে। চলবে…….

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।