আফতাবনগরে ৮ তলা ভবন, বসুন্ধরায় বিলাসবহুল ফ্ল্যাট-প্রকল্প, কোটি টাকার প্লট—দুদকে অনুসন্ধানের আবেদন। ফাইল ছবি
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাস্টমস উইংয়ের যুগ্ম কমিশনার কাজিয়া সুলতানা এবং তার স্বামী শিক্ষা ক্যাডারের কর্মকর্তা মহিউদ্দীন আহমেদ মুরাদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার, ঘুষ গ্রহণ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ তুলে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অনুসন্ধান শুরুর আবেদন করা হয়েছে।
গত ১৬ জুলাই ২০২৬ তারিখে নাগরিক অধিকার কর্মী ইকবাল আরসালান জনস্বার্থে দুদক চেয়ারম্যান বরাবর এ আবেদন জমা দেন। অভিযোগে বলা হয়েছে, কাস্টমসের একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনকালে ক্ষমতার অপব্যবহার ও বিভিন্ন অনিয়মের মাধ্যমে এই দম্পতি কোটি কোটি টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের মালিক হয়েছেন।
অভিযোগে যেসব সম্পদের তথ্য উল্লেখ
আবেদনে কাজিয়া সুলতানা ও তার স্বামীর নামে-বেনামে অর্জিত বলে দাবি করা বিভিন্ন সম্পদের বিবরণ তুলে ধরা হয়েছে।
আফতাবনগরে ৮ তলা ভবন : অভিযোগ অনুযায়ী, রাজধানীর আফতাবনগরের জহুরুল ইসলাম সিটির এফ ব্লকের ১ নম্বর সেক্টরের ৩ নম্বর রোডের ১৯ নম্বর বাড়িতে ৩ কাঠা জমির ওপর একটি ৮ তলা ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। ২০১৯ সালে জমি কেনা এবং ভবন নির্মাণে প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভবনটি থেকে মাসে প্রায় সাড়ে ৩ লাখ টাকা ভাড়া আদায় করা হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
অবৈধ ধনকুবের সম্রাজ্ঞী কাজিয়া দম্পতি।
বসুন্ধরায় ফ্ল্যাট ও প্লট : অভিযোগে বলা হয়েছে, বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার ‘আই’ ব্লকে ২,৪০০ বর্গফুটের একাধিক বিলাসবহুল ফ্ল্যাট এবং ‘এল’ ব্লকে ১২ কাঠার একটি প্লট রয়েছে, যার বর্তমান আনুমানিক বাজারমূল্য ১০ থেকে ১২ কোটি টাকা।
বাড্ডায় বাণিজ্যিক দোকানসহ অন্যান্য সম্পদ : আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, উত্তর বাড্ডার বিটিআই শপিংমলে ‘স্টাইল এমকে’ নামে দুটি বাণিজ্যিক দোকান রয়েছে, যার ক্রয়মূল্য আনুমানিক ৮০ থেকে ৯০ লাখ টাকা। এছাড়া উত্তরা ১১ নম্বর সেক্টরে সাড়ে ৪ কাঠা জমি, একাধিক বিলাসবহুল গাড়ি এবং গ্রামের বাড়িতে প্রায় ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত একটি ডুপ্লেক্স বাড়ির কথাও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
দায়িত্ব পালনকালে অনিয়মের নানা অভিযোগ
আবেদনে দাবি করা হয়েছে, কাজিয়া সুলতানা আইসিডি কাস্টম হাউস, ঢাকা উত্তর বন্ড কমিশনারেট এবং ঢাকা পশ্চিম ভ্যাট কমিশনারেটে দায়িত্ব পালনকালে অবৈধ আর্থিক সুবিধা গ্রহণের মাধ্যমে এসব সম্পদ গড়ে তোলেন। এছাড়া আইসিডি কাস্টম হাউসে কর্মরত থাকাকালে তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগে বিভাগীয় ব্যবস্থাও নেওয়া হয়েছিল বলে আবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, একজন সরকারি কর্মকর্তার বৈধ আয়ের সঙ্গে এসব সম্পদের কোনো সামঞ্জস্য নেই। বিষয়টি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর আওতায় অনুসন্ধানযোগ্য এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাজস্ব প্রশাসনে স্বচ্ছতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বক্তব্য পাওয়া যায়নি কাজিয়ার
অভিযোগের বিষয়ে ২য় পর্ব নিউজের বক্তব্য জানতে কাজিয়া সুলতানার হোয়াটসঅ্যাপে অভিযোগপত্র সংযুক্ত করে বার্তা পাঠানো হলেও প্রতিবেদন প্রস্তুত হওয়া পর্যন্ত তিনি কোনো প্রতিক্রিয়া জানাননি।
উল্লেখ্য, এ অভিযোগগুলো আবেদনকারীর উত্থাপিত অভিযোগের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। দুদকের অনুসন্ধান বা আদালতের মাধ্যমে অভিযোগের সত্যতা এখনো প্রতিষ্ঠিত হয়নি।
