ঘুষ, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ; তদন্তে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের নির্দেশ
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর কমিশনার মোহাম্মদ আবদুর রাকিবের বিরুদ্ধে কোটি কোটি টাকা ঘুষ গ্রহণ, দুর্নীতি, অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে ৩২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং এর মাধ্যমে সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি করার কথা বলা হয়েছে। বর্তমানে তিনি ঢাকার কর অঞ্চল-৮-এ কর্মরত। এর আগে তিনি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় এবং অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে (আইআরডি) চিঠি পাঠিয়েছে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। বাংলাদেশ ন্যাশনালিস্ট ল’ইয়ার্স ফোরামের পক্ষে ব্যারিস্টার রোকনউদ্দিন আহমেদের দাখিল করা লিখিত আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
আবেদনে অভিযোগ করা হয়েছে, সিআইসিতে দায়িত্ব পালনকালে মোহাম্মদ আবদুর রাকিব বিভিন্ন বড় শিল্পগোষ্ঠী ও ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের অডিট-সংক্রান্ত নথি আটকে রেখে কোটি কোটি টাকা দাবি করতেন। কয়েকটি শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের কাছে বড় অঙ্কের অর্থ দাবি এবং ঘুষ না দিলে প্রশাসনিকভাবে হয়রানি করার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে।
আবেদনে উল্লেখ করা তথ্য অনুযায়ী, বিভিন্ন অবৈধ উপায়ে রাকিব ৩২৪ কোটি টাকা আত্মসাৎ করেছেন বলে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ করা হয়েছে। এর ফলে সরকারি রাজস্বের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে বলেও আবেদনে উল্লেখ করা হয়।
রাজনৈতিক পরিচয় বদলে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়েছে, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর রাকিব নিজেকে ভিন্ন একটি আদর্শের সমর্থক হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করেন। একই সঙ্গে বর্তমান প্রশাসনের উচ্চপর্যায়ের পদে প্রভাব বিস্তার করতে অতিরিক্ত আর্থিক লেনদেনের চেষ্টা করেছেন বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়, এসব অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে নিয়মিত মামলা দায়ের এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চলমান অনুসন্ধান দ্রুত সম্পন্ন করা প্রয়োজন। পাশাপাশি তাঁর বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিও জানানো হয়েছে।
গুলশান-বনানীতে ফ্ল্যাট, বিদেশে বাড়ির অভিযোগ
সংযুক্ত তথ্যে অভিযোগ করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে রাজধানীর অভিজাত এলাকা গুলশান, বনানী, উত্তরা ও কলাবাগানে নিজের এবং স্ত্রী-সন্তানদের নামে বিলাসবহুল ফ্ল্যাট ও একাধিক প্লট কেনা হয়েছে।
এ ছাড়া অর্থপাচারের মাধ্যমে কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ায় ফ্ল্যাট ও বাড়ি কেনার পাশাপাশি বিভিন্ন ব্যাংকে বড় অঙ্কের স্থায়ী আমানত (এফডিআর) করার অভিযোগও রয়েছে।
তদন্ত এড়াতে লবিং ও প্রভাব বাণিজ্যের অভিযোগ
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, চলমান প্রশাসনিক ও দুদকের তদন্ত এড়ানো অথবা পদ নিশ্চিত করতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের ঘুষ প্রদান, লবিং এবং প্রভাব বাণিজ্যে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে রাকিবের বিরুদ্ধে।
এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে আবেদনের অনুলিপিসহ প্রয়োজনীয় আইনি ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে।
তবে আবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর সত্যতা তদন্তে প্রমাণিত হয়েছে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাইও করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্তে অভিযোগগুলোর প্রকৃত সত্যতা ও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি স্পষ্ট হবে।
