বুধবার, ২৪শে জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ১০ই আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এবার মেহেরপুরের গাংনীতে ছাড় পেল না মসজিদের রাস্তা,নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ, ক্ষোভে ফুঁসছেন মুসল্লি ও গ্রামবাসী

মেহেরপুর জেলা প্রতিনিধি
জুন ২৩, ২০২৬ ৯:৫৬ অপরাহ্ণ
Link Copied!

ফাইল ছবি

মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার ০৭ নম্বর সাহারবাটী ইউনিয়নের ০১ ও ০২ নম্বর ওয়ার্ডের ভমরদাহ গ্রামের একমাত্র জামে মসজিদের রাস্তা নির্মাণকাজে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও দায়সারা কাজের অভিযোগ এনে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মসজিদের মুসল্লি ও স্থানীয় গ্রামবাসীরা।

স্থানীয়দের অভিযোগ, রাস্তা নির্মাণে ৩ নম্বর ও ৪ নম্বর গ্রেডবিহীন সাধারণ ইট, নিম্নমানের বালি ব্যবহার করা হচ্ছে। এছাড়া কোনো ধরনের সলিং ছাড়াই পুরোনো হেয়ারিংয়ের ওপর সরাসরি ইট বসিয়ে কাজ করা হচ্ছে। এতে রাস্তার স্থায়িত্ব ও গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

গ্রামবাসীদের ভাষ্য, এর আগে যে রাস্তা ছিল, সেটি বর্তমান নির্মাণাধীন রাস্তার চেয়েও ভালো অবস্থায় ছিল। অথচ সরকারি অর্থ ব্যয়ে নতুন করে নির্মাণের নামে নিম্নমানের কাজ করা হচ্ছে।

ভমরদাহ গ্রামের ০১ ও ০২ নম্বর ওয়ার্ডের হাজারো মুসল্লি প্রতিদিন এই রাস্তা ব্যবহার করে জামে মসজিদে নামাজ আদায় করতে আসেন। বিশেষ করে ফজর ও এশার নামাজের সময় প্রবীণ মুসল্লিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হয়। অনেক সময় অন্ধকারে ও অসমতল পথে চলাচল করতে গিয়ে পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার ঘটনাও ঘটছে বলে অভিযোগ করেন স্থানীয়রা।

মুসল্লিদের প্রশ্ন, মসজিদের রাস্তার মতো পবিত্র ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট কাজেও যদি দুই নম্বরি ও অনিয়মের আশ্রয় নেওয়া হয়, তাহলে সাধারণ মানুষ আর কোথায় ন্যায়বিচার পাবে?

স্থানীয়দের দাবি, উপজেলা প্রশাসনের সরাসরি তদারকির মাধ্যমে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী মানসম্মত ও টেকসইভাবে রাস্তার কাজ সম্পন্ন করতে হবে। পাশাপাশি অনিয়মের অভিযোগ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তারা।

ঠিকাদার যা বললেন

এ বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান ঢাকা ব্রিকসের মালিক মো. আখতারুল ইসলাম বলেন, কাজ সরকারি নিয়ম অনুযায়ী হচ্ছে। তবে কতিপয় ব্যক্তি বিভিন্নভাবে কাজে বাধা সৃষ্টি করছেন। এভাবে চলতে থাকলে আমার পক্ষে কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে না।

প্যানেল চেয়ারম্যানের প্রতিক্রিয়া

এ বিষয়ে ০৭ নম্বর সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান আসমা তারা-র সঙ্গে মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে এলাকার বাইরে থাকার কথা বলে ফোন কেটে দেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বক্তব্য

গাংনী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এখন পর্যন্ত আমার কাছে কোনো লিখিত অভিযোগ আসেনি। তবে যদি কাজে অনিয়ম হয়ে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মাধ্যমে বিষয়টি তদন্ত করে নিয়ম অনুযায়ী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

উল্লেখ্য যে, মসজিদের রাস্তা শুধু একটি চলাচলের পথ নয়, এটি ধর্মীয়, সামাজিক ও জনস্বার্থের সঙ্গে জড়িত একটি গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। তাই স্থানীয়দের প্রত্যাশা—কোনো ধরনের অনিয়ম, নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহার কিংবা দায়সারা কাজের মাধ্যমে যেন সরকারি অর্থের অপচয় না হয়।

তাদের একটাই দাবি—মসজিদের রাস্তা যেন হয় মানসম্মত, টেকসই ও জনদুর্ভোগমুক্ত; অনিয়মের অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।