শনিবার, ১৫ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩১শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

এসএসসিতে শতভাগ ফেল, সমালোচনার মুখে ৩১২ প্রতিষ্ঠানকে শোকজ

আবদুর রহমান
আগস্ট ১৪, ২০২৬ ১১:১২ অপরাহ্ণ
Link Copied!

এসএসসি পরীক্ষায় শতভাগ শিক্ষার্থী ফেল করেছে—এমন ৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে শোকজ করছে শিক্ষা বোর্ড। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগেই পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫ জনের কম। কোথাও পরীক্ষার্থী মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন, আবার কোনো কোনো প্রতিষ্ঠানে এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে মাত্র একজন। এমনকি শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রায় ৭২ শতাংশই মাদ্রাসা।

এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন শিক্ষা গবেষকরা। তাদের প্রশ্ন—যেসব প্রতিষ্ঠানে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী নেই, নেই প্রয়োজনীয় অবকাঠামো ও মানসম্মত পাঠদানের পরিবেশ, সেসব প্রতিষ্ঠান কীভাবে অনুমোদন পেল? একই সঙ্গে শিক্ষার মান নিশ্চিত করতে এসব প্রতিষ্ঠান নিয়মিতভাবে তদারকি করা হচ্ছে কি না, তা নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন।

ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়ার শহীদ স্মৃতি গার্লস হাইস্কুল থেকে এ বছর এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় মাত্র পাঁচজন। তাদের সবাই ফেল করেছে। অথচ প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন সাতজন। শিক্ষকদের দাবি, নানা সংকটের কারণে ফলাফল খারাপ হয়েছে। একজন শিক্ষক জানান, দীর্ঘদিন ধরে গণিতের শিক্ষক বেতন না পাওয়ায় নিয়মিত ক্লাসে আসছেন না। ফলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনাতেও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে।

গাজীপুরের মেরুয়া সিনিয়র আলিম মাদ্রাসা থেকেও এবার এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয় ১৮ জন। তাদের একজনও পাস করেনি। প্রতিষ্ঠানটিতে শিক্ষক রয়েছেন ১৮ জন। শিক্ষকদের ভাষ্য, শিক্ষার্থীদের অনেক অভিভাবকই পড়াশোনার বিষয়ে সচেতন নন। বিশেষ করে মেয়েদের ক্ষেত্রে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক সময় ক্লাস চলাকালীন অভিভাবক এসে মেয়েদের নিয়ে যান। পরে জানা যায়, তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

শতভাগ ফেল করা অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের চিত্রও প্রায় একই। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশিরভাগ থেকে ১৫ জনের কম শিক্ষার্থী এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নিয়েছে। শতাধিক প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল মাত্র পাঁচ থেকে সাতজন। আবার কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষার্থী ছিল মাত্র একজন।

শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, শতভাগ ফেল করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে ইতোমধ্যে শোকজ করা হচ্ছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ধাপে ধাপে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটি।

আন্তঃশিক্ষাবোর্ড সমন্বয় কমিটির সমন্বয়ক অধ্যাপক সৈয়দ আক্তারুজ্জামান বলেন, প্রতিষ্ঠানের অবহেলা কিংবা নিজস্ব কোনো সমস্যার কারণে যদি এমন ফলাফল হয়ে থাকে, তাহলে অবশ্যই সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে জবাবদিহির আওতায় আনা হবে।

শিক্ষা গবেষকদের মতে, শুধু শোকজ করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। শতভাগ ফেল করা প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রয়োজনীয়তা, শিক্ষার পরিবেশ, শিক্ষকসংকট, শিক্ষার্থীর সংখ্যা এবং পাঠদানের মান—সবকিছু খতিয়ে দেখা জরুরি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক নূর-ই-আলম সিদ্দিকী বলেন, পুরো উপজেলায় মাত্র একজন শিক্ষা কর্মকর্তা এবং তার সঙ্গে এক বা দুইজন সহকারী শিক্ষা কর্মকর্তা থাকেন। তাদের পক্ষে একটি জেলার সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব নয়। এর বাইরে তাদের আরও অনেক দায়িত্ব পালন করতে হয়। তাই সরেজমিন তদারকির পাশাপাশি দূর থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থাও জোরদার করা প্রয়োজন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এবারের ফলাফলে এত শিক্ষার্থী কেন ফেল করেছে, তার প্রকৃত কারণও অনুসন্ধান করা দরকার। বিগত সময়ে নিয়ম-নীতির যথাযথ অনুসরণ না করে অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তাদের ভাষ্য, অনেক প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার মান তো দূরের কথা, নেই উপযুক্ত শিক্ষার পরিবেশও। ফলে শুধু পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশের পর দায় চাপিয়ে দেওয়ার পরিবর্তে প্রতিষ্ঠানগুলোর সার্বিক কার্যক্রম, শিক্ষক উপস্থিতি, পাঠদানের মান, শিক্ষার্থী উপস্থিতি ও ব্যবস্থাপনা কাঠামো নিয়মিত পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা জরুরি।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শতভাগ ফেল করা ৩১২টি প্রতিষ্ঠানকে চিহ্নিত করে প্রতিটির ফলাফল বিপর্যয়ের কারণ অনুসন্ধান করতে হবে। তদন্তে অবহেলা, অনিয়ম বা ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থী ও শিক্ষার পরিবেশ—দুটিই অপ্রতুল, সেসব প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন ও কার্যক্রমের যৌক্তিকতাও নতুন করে পর্যালোচনার দাবি জানিয়েছেন তারা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।