শিক্ষার আলো থেকে কেউ যেন বঞ্চিত না হয়—অনুদানের চেক বিতরণ, মতবিনিময় সভায় মানবিক সমাজ গড়ার আহ্বান। ফাইল ছবি
দারিদ্র্য যেন মেধার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে না পারে—এই লক্ষ্য সামনে রেখে কুষ্টিয়ায় সমাজের পিছিয়ে পড়া, দরিদ্র, দুঃস্থ ও অসহায় মেধাবী শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়িয়েছে জেলা পরিষদ। ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের রাজস্ব তহবিল থেকে জেলার ৪৮ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর শিক্ষাসহায়তায় মোট ২ লাখ ৬০ হাজার টাকার অনুদান প্রদান করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় কুষ্টিয়া জেলা পরিষদ কার্যালয়ে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের হাতে অনুদানের চেক তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অনুষ্ঠিত হয় মতবিনিময় সভা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের প্রশাসক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন। তাঁর হাত থেকেই অনুদানের চেক গ্রহণ করেন সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীরা।
কুষ্টিয়া জেলা পরিষদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুল হাই সিদ্দিকীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে জেলা পরিষদের অন্যান্য কর্মকর্তারা ছাড়াও অনুদানপ্রাপ্ত শিক্ষার্থী ও তাঁদের অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।
‘পাশে দাঁড়ানো শুধু দায়িত্ব নয়, নৈতিক কর্তব্য’
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা পরিষদ প্রশাসক অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন বলেন, সমাজের পিছিয়ে পড়া শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো কেবল দায়িত্ব নয়, এটি নৈতিক কর্তব্য। জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে অসহায় ও মেধাবী শিক্ষার্থীরা যাতে কোনোভাবেই শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত না হয়, সে জন্য ধারাবাহিকভাবে সহযোগিতার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, এই আর্থিক সহায়তা হয়তো শিক্ষার্থীদের জন্য সাময়িক স্বস্তি বয়ে আনবে। তবে এর চেয়েও বড় বিষয় হলো—তাদের আত্মবিশ্বাস বাড়ানো এবং জীবনের নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি ও সাহস জোগানো।
‘মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি’
অধ্যক্ষ সোহরাব উদ্দিন আরও বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান ও দেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনা ও অনুপ্রেরণায় সাধারণ মানুষ এবং সুবিধাবঞ্চিত মেধাবী শিক্ষার্থীদের মুখে হাসি ফোটাতে ধারাবাহিকভাবে এমন মানবিক উদ্যোগ গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, মানুষের পাশে দাঁড়ানোই প্রকৃত রাজনীতি। জনগণের সুখ-দুঃখের অংশীদার হয়ে কাজ করার মধ্য দিয়েই একটি মানবিক, কল্যাণমুখী ও বৈষম্যহীন সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব।
জেলা পরিষদের এই উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, ভবিষ্যতেও মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য এ ধরনের সহযোগিতার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।
