বুধবার, ৬ই মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৩শে বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

গাংনী পৌর মার্কেটে ‘রাতের আঁধারে’ ঢালাই,কোটি টাকার প্রকল্পে শামীম রেজার অনিয়মের বিস্ফোরক অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
মে ৫, ২০২৬ ৯:০৫ অপরাহ্ণ
Link Copied!

গাংনী পৌরসভার বহুল প্রত্যাশিত পৌর মার্কেট নির্মাণ প্রকল্প ঘিরে উঠেছে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ। কোটি টাকার এই উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের কথা থাকলেও, শুরু থেকেই প্রকল্পটি নানা বিতর্ক, অনিয়ম ও প্রশ্নবিদ্ধ কার্যক্রমে জড়িয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।

দলীয় জনপ্রতিনিধিরা বারবার উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়ে “নগরপিতা” হিসেবে নির্বাচিত হলেও, বাস্তবে দৃশ্যমান উন্নয়নের বদলে উদ্বোধনেই সীমাবদ্ধ থেকেছেন বলে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন পৌরবাসী। ফলে প্রকল্প বাস্তবায়নের নিয়ন্ত্রণ দীর্ঘদিন ধরে থেকে গেছে পৌর প্রধান প্রকৌশলী শামীম রেজা ও সহকারী প্রকৌশলী রাজু আহমেদের হাতে।
নির্মাণাধীন ভবনের ছবি। স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে অনিয়মের চিত্র।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ২০০১ সাল থেকে দীর্ঘদিন একই স্থানে কর্মরত থাকায় সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীদের সঙ্গে কিছু ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। এতে করে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এমনকি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ঠিকাদার অভিযোগ করেন, অনেক কাজ নিজেরাই টেন্ডার দিয়ে নিজেরাই বাস্তবায়ন করে থাকে একটি প্রভাবশালী চক্র।

আরও অভিযোগ রয়েছে—বড় বড় কাজ রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে নির্দিষ্ট কিছু ঠিকাদারের কাছে চলে যায়, যারা পরে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে কাজ সম্পন্ন করছে পৌর কর্মকর্তাদের সহযোগিতায়। এতে করে নির্মাণের মান নিয়ে তৈরি হয়েছে গভীর সন্দেহ।

প্রকল্পের সময়সীমা ও ব্যয়: ১৫ এপ্রিল ২০২৪ তারিখে শুরু হওয়া এই প্রকল্পটি শেষ হওয়ার কথা ছিল ১৩ মে ২০২৬। নির্মাণ ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ১৬ কোটি ২৯ লাখ ১৫ হাজার ২৬৮ টাকা ৬২ পয়সা। কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে, অনিয়মের অভিযোগ ততই বেড়েছে।

‘রাতের আঁধারে ঢালাই’—কি হচ্ছে মার্কেটে?
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের বেলায় নজরদারি থাকলেও শুক্রবারসহ বিভিন্ন দিন গভীর রাতে ঢালাই কাজ চালানো হচ্ছে, যাতে অনিয়ম ধামাচাপা দেওয়া যায়। এসব কাজে প্রধান প্রকৌশলী শামীম রেজার প্রত্যক্ষ সহযোগিতা রয়েছে বলেও অভিযোগ উঠেছে।

নির্মাণ সামগ্রীতে ভয়াবহ গরমিল:
সিডিউল অনুযায়ী ঢালাই কাজে ব্যবহার করার কথা—
৪ বস্তা পাথর
২ বস্তা বালি
১ বস্তা সিমেন্ট
কিন্তু বাস্তবে ব্যবহৃত হচ্ছে—
৮-৯ বস্তা পাথর
৫-৬ বস্তা বালি
মাত্র ১ বস্তা সিমেন্ট
এতে করে নির্মাণের স্থায়িত্ব ও নিরাপত্তা নিয়ে দেখা দিয়েছে গুরুতর শঙ্কা।

ঠিকাদারের বক্তব্য বনাম বাস্তবতা-ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানের কর্মীরা দাবি করেছেন, নিয়ম মেনেই কাজ হচ্ছে, কোনো অনিয়ম নেই। তবে ঠিকাদার মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

প্রকৌশলী ও প্রশাসনের প্রতিক্রিয়া-প্রধান প্রকৌশলী শামীম রেজা অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন,অনিয়মের কোনো সুযোগ নেই, আমাদের ইঞ্জিনিয়াররা সবসময় উপস্থিত থাকেন।

অন্যদিকে পৌর প্রশাসক মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ এখনো আমার কাছে আসেনি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আগের অভিযোগও রয়েছে
এর আগেও প্রায় ১২৭ কোটি টাকার একাধিক প্রকল্পে শামীম রেজার বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল। তবে তাতেও তিনি বিচলিত নন বলে অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তিনি দীর্ঘদিন ধরে এসব কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।

স্থানীয়দের ক্ষোভ ও হতাশা চরমে-নগর অবকাঠামো উন্নয়নের কোনো বাস্তব পরিকল্পনা না থাকায় গাংনী পৌরসভায় একের পর এক জটিলতা তৈরি হচ্ছে। উন্নয়নের নামে অনিয়ম আর দুর্নীতির অভিযোগে অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

অনুসন্ধান চলছে…শামীম রেজার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। চাঞ্চল্যকর আরও তথ্য নিয়ে পরবর্তী পর্বে প্রকাশিত হবে বিস্তারিত।

চলবে…

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।