মাগুরার শ্রীপুর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) কার্যালয় যেন পরিণত হয়েছে এক অঘোষিত “ব্যক্তিগত সাম্রাজ্যে”! সরকারি বিধিমালাকে যেন বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে টানা ১০ বছর ধরে একই দপ্তরে বহাল রয়েছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী অমিতাব সরকার। একটি অস্থায়ী প্রকল্পের নিয়োগ নিয়ে শুরু হলেও সময়ের পরিক্রমায় সেই পদই যেন হয়ে উঠেছে স্থায়ী প্রভাব ও ক্ষমতার কেন্দ্র।
সরকারি নিয়ম বলছে—প্রকল্পের মেয়াদ শেষ মানেই সংশ্লিষ্ট জনবলের চাকরির ইতি। অথচ বাস্তবতা বলছে ভিন্ন গল্প। ২০১৫ সালে অতিদরিদ্রদের জন্য কর্মসংস্থান কর্মসূচি (ইজিপিপি) প্রকল্পে অস্থায়ী ভিত্তিতে যোগ দেওয়া অমিতাব সরকার এখনো বহাল তবিয়তে সেই একই অফিসে কর্মরত। প্রশ্ন উঠছে—কোন শক্তির বলে?
নথিপত্র ঘেঁটে জানা যায়, ২০১৫ সালের ৭ ডিসেম্বর কাজে যোগদান করেন তিনি। ২০১৬ সালের ২৩ আগস্ট (স্মারক নং-৩৭৭) তার পুলিশ ভেরিফিকেশন প্রক্রিয়া শুরু হলেও, প্রকল্প শেষ হওয়ার পর তার অবস্থান নিয়ে আর কোনো সুস্পষ্ট নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। এরপর থেকেই যেন রহস্যের পর্দা নেমে যায়—আর সেই আড়ালেই গড়ে ওঠে এক দীর্ঘ “অবৈধ অবস্থান”।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ এক দশক ধরে একই স্টেশনে থেকে পিআইও অফিসের কার্যক্রমে একচ্ছত্র প্রভাব বিস্তার করেছেন অমিতাব সরকার। টিআর, কাবিখা, কাবিটা—এমন গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর তদারকির আড়ালে চলছে অনৈতিক সুবিধা আদায়, প্রভাব খাটানো আর গোপন লেনদেনের অভিযোগ। এলাকাজুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে তার বিপুল সম্পদ অর্জনের গুঞ্জন, যা আরও ঘনীভূত করেছে সন্দেহের মেঘ।
একাধিক সূত্রের দাবি, উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে “ম্যানেজ” করা এবং স্থানীয় পিআইওর প্রচ্ছন্ন আশীর্বাদেই এই দীর্ঘস্থায়ী অবস্থান ধরে রেখেছেন তিনি। অফিসের ভেতরের একাধিক গোপন নথি ও লেনদেনের “রক্ষক” হিসেবেই তাকে রাখা হয়েছে—এমন বিস্ফোরক তথ্যও উঠে এসেছে অনুসন্ধানে।
সচেতন মহল প্রশ্ন তুলছে—একটি প্রকল্প শেষ হওয়ার পরও কীভাবে একজন কর্মকর্তা ১০ বছর ধরে একই দপ্তরে বহাল থাকেন?
সরকারি বেতন কাঠামোর বাইরে থেকে কীভাবে তার অবস্থান বৈধতা পায়? উন্নয়ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা কি তবে এই ধরনের অনিয়মের অন্ধকারেই হারিয়ে যাচ্ছে?
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। অন্যদিকে, অমিতাব সরকারের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি তা রিসিভ করেননি।
এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ স্থানীয় জনগণ ও ভুক্তভোগীরা বলছেন, এটা শুধু একজন ব্যক্তির বিষয় নয়, এটা পুরো ব্যবস্থার প্রশ্ন। তারা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের জরুরি হস্তক্ষেপ, স্বচ্ছ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রশ্ন এখন একটাই—শ্রীপুর পিআইও অফিস কি তবে দুর্নীতির অভয়ারণ্য হয়ে উঠেছে? নাকি এর পেছনের অদৃশ্য শক্তির মুখোশ এবার খুলবে? এমনটাই ভাবছেন নেটিজেনরা।
