গৃহকর্মী নির্যাতনের গুরুতর অভিযোগে খুলনার সোনাডাঙ্গা থানার উপসহকারী পরিদর্শক (এএসআই) পপি রানী সাহা ও তার স্বামী সঞ্জয় কুমার সরকারের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পরপরই দুজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি তাদের চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।
বৃহস্পতিবার সকালে ভুক্তভোগী গৃহকর্মীর মা মিনতী রানী সোনাডাঙ্গা থানায় মামলাটি দায়ের করেন। অভিযোগ পাওয়ার পরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দ্রুত অভিযান চালিয়ে দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ জানায়, সোনাডাঙ্গা আবাসিক এলাকার দ্বিতীয় ফেজের ৬ নম্বর রোডের ৪১৯ নম্বর বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন পপি-সঞ্জয় দম্পতি। তাদের সন্তান দেখাশোনার জন্য মিলন দাশ নামে এক কিশোরীকে আনা হয়, যে প্রায় পাঁচ বছর ধরে তাদের সঙ্গেই ছিল।
ঘটনার সূত্রপাত ঘটে গত বুধবার দুপুরে। রান্নার সময় অসাবধানতাবশত কড়াইয়ে তরকারি পুড়ে গেলে ক্ষোভে গৃহকর্মী মিলন দাশের ওপর নৃশংসভাবে হামলা চালানোর অভিযোগ ওঠে। অভিযোগ অনুযায়ী, পপি রানী সাহা ওই পোড়া কড়াই দিয়ে তাকে ছ্যাঁকা দেন, পাশাপাশি চড়-থাপ্পড় ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। এমনকি কান ধরে ওঠবস করানোর মতো অপমানজনক আচরণের কথাও উঠে এসেছে।
ঘটনাটি পাশের বাড়ির জানালা দিয়ে দেখে কয়েকজন সংবাদকর্মী ও নারী নেত্রী দ্রুত সেখানে ছুটে যান। পরে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন দিলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আহত গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে। তাকে দ্রুত খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ানস্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) ভর্তি করা হয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর মা থানায় মামলা করলে পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই পুলিশ দম্পতিকে গ্রেপ্তার করে। আদালতে হাজির করার পর বিচারক তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
খুলনা মহানগর পুলিশের সোনাডাঙ্গা জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার মো. হুমায়ুন কবির বলেন, “গৃহকর্মীকে উদ্ধার করে ওসিসিতে ভর্তি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের পর অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়। তারা বর্তমানে কারাগারে রয়েছে। ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
