ফাইল ছবি
জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনে হঠাৎ করেই উত্তাপ ছড়ায় ‘পরকীয়া’ ও ‘মুতা বিয়ে’ প্রসঙ্গকে ঘিরে। বাংলাদেশ খেলাফত মজলিশের আমির মাওলানা মামুনুল হককে কেন্দ্র করে আওয়ামী লীগ আমলের একটি পুরনো ঘটনা আবারও আলোচনায় আনেন ঢাকা-১ আসনের সংসদ সদস্য খোন্দকার আবু আশফাক। তাঁর বক্তব্যের পরই সংসদে শুরু হয় তুমুল বিতর্ক।
বৃহস্পতিবার বাজেট অধিবেশনের দশম দিনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে আলোচনার সময় আবু আশফাক ইসলামী ব্যাংক প্রসঙ্গ টেনে শুরু করেন সমালোচনা। এরপরই তিনি মামুনুল হকের কর্মকাণ্ড, রাজনৈতিক বক্তব্য এবং অতীত ঘটনার প্রসঙ্গ তুলে ‘মুতা বিয়ে’ বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি দাবি করেন, অতীতে এ নিয়ে নানা আলোচনা থাকলেও প্রকৃত ঘটনা কী ছিল তা স্পষ্ট নয়।
তাঁর বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, এমন ব্যক্তিগত ও বিতর্কিত বিষয় সংসদের কার্যবিবরণীতে আনা সমীচীন নয়। একই সঙ্গে তিনি মন্তব্য করেন, যার বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা হচ্ছে তিনি সংসদে উপস্থিত নন, তাই জবাব দেওয়ার সুযোগও নেই। স্পিকার আরও বলেন, এ ধরনের অন্ধকার দিক এখানে আলোচনার প্রয়োজন নেই।
এরপর বিরোধী দলীয় উপনেতা সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের পয়েন্ট অব অর্ডারে উঠে বক্তব্য দেন। তিনি স্পিকারের সঙ্গে একমত পোষণ করে বলেন, মামুনুল হকের বিরুদ্ধে আনা ‘মুতা বিয়ে’ সংক্রান্ত তথ্য সঠিক নয় এবং এটি কার্যবিবরণী থেকে এক্সপাঞ্জ করা উচিত। তিনি দাবি করেন, ওই ঘটনায় ভুল তথ্য উপস্থাপন করা হয়েছে এবং বাস্তবে সেখানে বিয়ের ঘটনা ঘটেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
চিফ হুইপ নূরুল ইসলামও অসংসদীয় অংশগুলো এক্সপাঞ্জ করার অনুরোধ জানান।
সবশেষে স্পিকার পুনরায় হস্তক্ষেপ করে বলেন, এই বিতর্কিত বিষয় সংসদের রেকর্ডে রাখার প্রয়োজন নেই। তিনি জানান, ব্যক্তিগত চরিত্র নিয়ে এমন আলোচনা তিনি নিজেও চান না এবং বিষয়টি এক্সপাঞ্জ করার নির্দেশ দেন।
এরই মধ্যে জামায়াতে ইসলামীর মুজিবুর রহমান পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিয়ে আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করেন। তিনি বলেন, অতীতে এ ধরনের কিছু প্রথা থাকলেও এখন তা ধর্মীয়ভাবে নিষিদ্ধ।
উল্লেখ্য, ২০২১ সালের ৩ এপ্রিল সোনারগাঁয়ের একটি রিসোর্টে মামুনুল হক একটি নারীসহ অবস্থান করলে তাকে স্থানীয়রা অবরুদ্ধ করেন। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। যদিও পরবর্তীতে মামুনুল হক দাবি করেন, ওই নারী তাঁর বিবাহিত স্ত্রী ছিলেন।
সংসদের ভেতরে এই ঘটনাকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হলেও শেষ পর্যন্ত স্পিকারের হস্তক্ষেপে আলোচনার ইতি টানা হয় এবং বিতর্কিত অংশগুলো কার্যবিবরণী থেকে বাদ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
