ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে বাসভাড়া নিয়ে তুচ্ছ বিরোধকে কেন্দ্র করে চলন্ত বাস থেকে এক শিক্ষার্থীকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে সেলফি পরিবহনের চালক ও সহকারীর বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষোভে ফেটে পড়ে বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা, জব্দ করে একই পরিবহনের ১১টি বাস।
বুধবার দুপুরে সাভার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে জব্দ করা বাসগুলো সাভার সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যাওয়া হয়।
পুলিশ, শিক্ষার্থী ও কলেজ সূত্রে জানা গেছে, সাভার সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ইমনসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী ধামরাই সরকারি কলেজে পরীক্ষা দিতে সাভার থানা বাসস্ট্যান্ড থেকে সেলফি পরিবহনের একটি বাসে ওঠেন। এ সময় ভাড়া নিয়ে বাসের সহকারীর সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়, যা একপর্যায়ে হাতাহাতিতে রূপ নেয়।
অভিযোগ রয়েছে, বাসটি ধামরাই থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে চলন্ত অবস্থায় ইমনকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দেওয়া হয়। পরে অন্য শিক্ষার্থীদেরও জোরপূর্বক বাস থেকে নামিয়ে দিয়ে দ্রুতগতিতে পালিয়ে যায় বাসটি। স্থানীয়রা আহত শিক্ষার্থীদের উদ্ধার করে সাভারের একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে।
এ ঘটনার খবর কলেজ ক্যাম্পাসে পৌঁছালে সহপাঠীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা তাৎক্ষণিক বিক্ষোভে নামেন এবং ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে চলাচলরত সেলফি পরিবহনের ১১টি বাস আটক করে কলেজ ক্যাম্পাসে নিয়ে যান।
শিক্ষার্থী হাবিবুর রহমান বলেন, “ফাইনাল পরীক্ষা দিতে যাওয়ার পথে ভাড়া নিয়ে তর্কের জেরে আমাদের মারধর করা হয়। ইমনকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়া হয়, পরে আমাদেরও জোর করে নামিয়ে দেওয়া হয়।
সাভার সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ হামিদ মোল্লা বলেন, ভাড়া নিয়ে বিরোধের জের ধরে এমন অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা চলছে।
সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরমান আলী জানান, সেলফি পরিবহন কর্তৃপক্ষকে থানায় ডাকা হয়েছে। তারা এলে ঘটনার বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সমালোচনামূলক দৃষ্টিতে- পরিবহন শ্রমিকদের এ আচরণ বদলানো যাবে কি? রাজধানী ঢাকা থেকে শুরু করে মফস্বল এলাকায় ও এ অভিযোগ দিন দিন জোড়ালো হলেও নজরদারি লঘু। আর ভোগান্তি সাধারণ শিক্ষার্থীদের।
আবার সড়কে যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দায়িত্ব যেখানে পরিবহন কর্তৃপক্ষের, সেখানে সামান্য ভাড়া বিরোধে শিক্ষার্থীকে চলন্ত বাস থেকে ফেলে দেওয়ার অভিযোগ শুধু দায়িত্বহীনতাই নয়, চরম অমানবিকতারও উদাহরণ। এ ধরনের ঘটনা বারবার ঘটলেও কঠোর জবাবদিহির অভাবেই যেন বেপরোয়া আচরণ থামছে না।
