জান্নাতুন নাঈম ফারিহা। ছবি: সংগৃহীত
দাম্পত্য কলহ না পরিকল্পিত হত্যা? রহস্যে ঘেরা তরুণীর মৃত্যু, পলাতক স্বামী।
কুমিল্লার বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থী ফারিহা। তার স্বপ্ন ছিল ইঞ্জিনিয়ার হবে… কিন্তু সেই স্বপ্নই আজ ঝুলে আছে নিথর দেহের সঙ্গে—বাবার বুকভাঙা এই আর্তনাদ যেন ছিন্নভিন্ন করে দিচ্ছে পুরো পরিবেশ।
২৩ বছর বয়সী জান্নাতুন নাঈম ফারিহা—যার চোখে ছিল উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন, যার হাতে ছিল কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বই—সেই মেয়েই আজ লাশ হয়ে ফিরল বাবার বাড়িতে।
মঙ্গলবার রাতে কুমিল্লার এক বহুতল ভবনের ফ্ল্যাট থেকে উদ্ধার হওয়া তার ঝুলন্ত মরদেহ ঘিরে এখন প্রশ্নের ঝড়—এটি কি আত্মহত্যা, নাকি নির্মম পরিকল্পিত হত্যা?
বাবা মো. হানিফ মিয়ার কণ্ঠে ক্ষোভ আর অসহায়তা—
আমার মেয়েকে নির্যাতন করত, মারধর করত… আগেও মেরে ফেলার হুমকি দিয়েছিল। আজ সেই আশঙ্কাই সত্যি হলো!
মাত্র আট মাসের দাম্পত্য জীবন—যেখানে থাকার কথা ছিল ভালোবাসা, সেখানে ছিল অভিযোগ, নির্যাতন আর অশান্তি। আর সেই সম্পর্কেরই করুণ পরিণতি—একটি তরতাজা প্রাণের নিভে যাওয়া।
ফারিহার মৃত্যুর পর থেকেই রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে—স্বামীসহ তার পরিবারের কেউ নেই, ফ্ল্যাট ফাঁকা, চারদিকে নীরবতা। যেন এই মৃত্যু লুকিয়ে রাখছে আরও অজানা গল্প।
এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও শোকাহত—মেধাবী, শান্ত স্বভাবের একটি মেয়ের এমন পরিণতি কেউ মেনে নিতে পারছেন না।
এখন সবার একটাই দাবি—সত্য উদঘাটন হোক, দোষীদের শাস্তি হোক। কারণ, ফারিহার অসমাপ্ত স্বপ্ন আজ শুধু একটি পরিবারের নয়—একটি সমাজের বিবেককে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
উল্লেখ্য যে, এমন পরিণতি যেন আমাদের সমাজে আর যেন না দেখে কোন পরিবার। সমাজের দায় এড়াতে গিয়ে আমরা যেন প্রশ্নবিদ্ধ না হই বিবেকের কাছে।
