সোমবার, ১৩ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৯শে আষাঢ়, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

চিফ প্রসিকিউটর: ‘শেখ হাসিনার দেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের সুযোগ নেই’ বাংলাদেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার, কারাগারে পাঠানো হবে; আপিলের বিষয়টি নির্ভর করবে আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর

অনলাইন ডেস্ক
জুলাই ১৩, ২০২৬ ১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

আমিনুল ইসলাম, ছবি: সংগৃহীত

ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি শেখ হাসিনার বাংলাদেশে ফিরে সরাসরি আত্মসমর্পণের কোনো আইনি সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম।

রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা চাইলে সাধারণ নাগরিকের মতো স্বাধীনভাবে দেশে ফিরতে পারবেন না। বাংলাদেশে তার প্রত্যাবর্তনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে বিদ্যমান কূটনৈতিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করতেই হবে।

দেশে ফিরলেই গ্রেপ্তার, তারপর কারাগার

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, শেখ হাসিনা বর্তমানে ভারত সরকারের নিয়ন্ত্রণে নির্বাসনে রয়েছেন। তিনি যদি দেশে ফিরতে চান, তাহলে দুই দেশের পারস্পরিক সমঝোতা ও আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই তা সম্ভব হবে। তিনি যখনই বাংলাদেশের মাটিতে পা রাখবেন, তখনই তাকে গ্রেপ্তার করা হবে এবং সরাসরি কারাগারে পাঠানো হবে।

তিনি আরও জানান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায় অনুযায়ী শেখ হাসিনার দেশে থাকা সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি ইতোমধ্যে রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে।

আপিলের সুযোগ নিয়ে কী বললেন চিফ প্রসিকিউটর

ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ প্রসঙ্গে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন, ১৯৭৩-এর ২১(৩) ধারা উল্লেখ করে মোহাম্মদ আমিনুল ইসলাম বলেন, সেকশন ২১-এর (৩) পরিষ্কার করেই বলছে, ৩০ দিনের পরে আর কোনো আপিল হবে না।

তবে সময়সীমা অতিক্রমের পর শেখ হাসিনা দেশে ফিরলে আপিল করতে পারবেন কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যদি শেখ হাসিনাকে কোনোভাবে বাংলাদেশে আনা হয় অথবা তাকে বাংলাদেশে পাওয়া যায়, তাহলে যেহেতু তার বিরুদ্ধে মৃত্যুদণ্ডাদেশ রয়েছে, তিনি প্রথমে জেলে যাবেন। এরপর তিনি আপিল করতে পারবেন কি পারবেন না, সেই বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

তিনি আরও বলেন, যদি আপিলের সুযোগ না থাকে, তাহলে বিদ্যমান সাজা বহাল থাকবে। আর যদি আদালত আপিল গ্রহণ করেন, তাহলে আপিল নিষ্পত্তির পর আইন অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। বিষয়টি সম্পূর্ণভাবে আপিল বিভাগের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে বলেও জানান তিনি।

শাপলা চত্বর ও জুলাই-আগস্টের মামলার তদন্ত শেষ পর্যায়ে

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ২০১৩ সালের ৫ মে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে হেফাজতে ইসলামের মহাসমাবেশে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের মামলার তদন্ত শেষ হয়েছে। আগামী ২১ জুলাই এ-সংক্রান্ত তদন্ত প্রতিবেদন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দাখিল করা হবে।

এছাড়া ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানে সংঘটিত নৃশংসতা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের প্রধান ১০টি মামলার তদন্তও চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে। খুব শিগগিরই এসব মামলার তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।

আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে প্রত্যাবর্তন

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনার দেশে ফেরা কিংবা আত্মসমর্পণ—উভয় ক্ষেত্রেই আইনি ও কূটনৈতিক প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করে কারাগারে নেওয়া হবে এবং পরবর্তী সব আইনি পদক্ষেপ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী পরিচালিত হবে।

উল্লেখ্য: উপরের প্রতিবেদনটি সংশ্লিষ্ট সংবাদ সম্মেলনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপিত হয়েছে। আইনি বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সংশ্লিষ্ট আদালতের এখতিয়ারভুক্ত।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
আইন-আদালত সর্বশেষ