শনিবার, ১৮ই জুলাই, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৩রা শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

‘চীনের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না’—মির্জা ফখরুল, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদারের আহ্বান

স্টাফ রিপোর্টার
জুলাই ১৮, ২০২৬ ৫:৫১ অপরাহ্ণ
Link Copied!

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর (ছবি- সংগৃহীত)

সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশ ও চীনের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, পারস্পরিক আস্থা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে গড়ে ওঠা এই সম্পর্ক সহজে কেউ বিচ্ছিন্ন করতে পারবে না। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রায় চীনের মতো একটি শক্তিশালী অংশীদারের সহযোগিতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

শনিবার রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলের পদ্মা হলে বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশন (বিসিএফএ) আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান বিশ্বে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল দেশগুলো বাণিজ্য, নিরাপত্তা, অবকাঠামো ও উন্নয়নসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ভবিষ্যতে এই অংশীদারত্ব আরও বিস্তৃত হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

তিনি বলেন, বিশ্বে অন্যায়, আধিপত্যবাদ ও সম্প্রসারণবাদের বিরুদ্ধে নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতা চীনের রয়েছে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ন্যায়ভিত্তিক বিশ্বব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় চীনকে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশও সেই প্রচেষ্টায় চীনের পাশে থাকতে চায়।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, চাইনিজ কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিসি) সঙ্গে বিএনপির সম্পর্ক দীর্ঘদিনের। বিরোধী দলে থাকার সময়ও, যখন ‘ফ্যাসিস্ট সরকার’ তাদের ওপর দমন-পীড়ন চালিয়েছে বলে তিনি দাবি করেন, তখনও সিপিসির সঙ্গে বিএনপির যোগাযোগ অব্যাহত ছিল।

তিনি বলেন, একসময় তাদের ধারণা ছিল চীন শুধু আওয়ামী লীগের সঙ্গে সম্পর্ক রাখে। পরে তারা উপলব্ধি করেন, চীন বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক পক্ষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী এবং একই সঙ্গে বাংলাদেশ-চীনের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে চায়।

মির্জা ফখরুল বলেন, আমরা সবসময় চেয়েছি, চীনের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক জাতীয় স্বার্থে আরও সুদৃঢ় হোক। আমরা চাই, চীনের মতো একটি শক্তিশালী দেশ অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের পাশে থাকুক।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ একই সঙ্গে প্রতিবেশী ভারতের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখতে চায়। পাশাপাশি ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক সম্প্রসারণের মাধ্যমে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

দেশের প্রায় চার কোটি বেকার যুবকের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে চীনের প্রযুক্তি, বিনিয়োগ ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা প্রয়োজন উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক চীন সফর অনুষ্ঠিত হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এই সফরের মাধ্যমে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা শুধু প্রতিশ্রুতি নয়, বাস্তবায়ন দেখতে চাই। যেসব ক্ষেত্রে চীনের প্রযুক্তি ও বিনিয়োগ প্রয়োজন, সেসব ক্ষেত্রে চীন দ্রুত এগিয়ে আসুক।

অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জাহির উদ্দিন স্বপন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সংসদ সদস্য শিমুল বিশ্বাস।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ-চায়না ফ্রেন্ডশিপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট নোজমুল হক নান্নু।

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা এবং জনগণের পারস্পরিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যেই এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এতে কূটনীতিক, ব্যবসায়ী, রাজনীতিবিদ এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার বিশিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।