মতিঝিল-কমলাপুরের নানা অপরাধে আলোচিত তানিম রেজা; অস্ত্রভাণ্ডার নিয়ন্ত্রণ ও চাঁদাবাজির অভিযোগ।তানিম রেজা ওরফে বাপ্পি
রাজধানীর মতিঝিল, কমলাপুর, মালিবাগ ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে নানা সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আলোচিত তানিম রেজা ওরফে বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তিনি ইন্টারপোল ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের ঘনিষ্ঠ সহযোগী এবং তাঁর অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম নিয়ন্ত্রক হিসেবে পরিচিত।
শুক্রবার (রাত) রাজধানীর দক্ষিণ কমলাপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও মতিঝিল থানা-পুলিশের যৌথ টিম তাকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, তানিম রেজার বিরুদ্ধে রাজধানীর বিভিন্ন থানায় হত্যাচেষ্টা, চাঁদাবাজি ও অস্ত্র আইনে অন্তত সাতটি মামলা রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে তিনি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর নজর এড়িয়ে আত্মগোপনে ছিলেন। তাঁর বিরুদ্ধে কোরবানির পশুর হাটের ইজারা-কেন্দ্রিক সংঘর্ষ, প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণ, চাঁদাবাজি এবং সংগঠিত অপরাধচক্র পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগ রয়েছে।
মতিঝিল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুজ্জামান তালুকদার জানান, যৌথ অভিযানে তানিম রেজা বাপ্পিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁর বিরুদ্ধে ডিএমপির বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা রয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আদালতের মাধ্যমে তাঁকে রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করা হবে।
মতিঝিল থানা সূত্র আরও জানায়, এজাহারভুক্ত মামলার বাইরেও রাজধানীর একাধিক আলোচিত অপরাধের ঘটনায় তাঁর সম্পৃক্ততার গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেয়েছে পুলিশ। বিশেষ করে মতিঝিল, মগবাজার, মালিবাগ ও কমলাপুর এলাকায় আন্ডারওয়ার্ল্ডের শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইনের নাম জড়িত যেসব অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, সেসব ঘটনার মাঠপর্যায়ের কার্যক্রমে তানিম রেজার প্রত্যক্ষ সংশ্লিষ্টতার তথ্য মিলেছে।
এছাড়া, সাম্প্রতিক ঈদুল আজহার আগে দক্ষিণ কমলাপুরে কোরবানির পশুর হাটের ইজারাদার ইসমাইল হোসেনের কার্যালয় লক্ষ্য করে প্রকাশ্যে গুলিবর্ষণের ঘটনায় মতিঝিল থানায় দায়ের করা মামলার তদন্তেও তানিম রেজার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট তদন্ত সূত্র।
পুলিশ বলছে, গ্রেপ্তারকৃত তানিম রেজাকে জিজ্ঞাসাবাদের মাধ্যমে রাজধানীতে সক্রিয় সন্ত্রাসী নেটওয়ার্ক, অস্ত্রের উৎস এবং সংঘবদ্ধ অপরাধচক্র সম্পর্কে আরও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে।
