ড্রেনেজ ব্যবস্থার দুর্বলতায় চরম ভোগান্তি, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি বাসিন্দাদের। ফাইল ছবি
টানা ভারী বর্ষণে জলাবদ্ধতার কবলে পড়েছে পটুয়াখালী শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিচু এলাকা। বাসাবাড়িতে পানি ঢুকে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন হাজারো মানুষ। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, কাঁচা ড্রেন এবং ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন শহরবাসী।
শনিবার (১১ জুলাই) সকাল ৯টা থেকে রোববার সকাল ৯টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় পটুয়াখালী জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে জেলা আবহাওয়া অফিস। রাতভর টানা বর্ষণে শহরের বিভিন্ন সড়ক, অলিগলি ও নিম্নাঞ্চল পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে জলাবদ্ধতা থাকায় জনজীবন প্রায় স্থবির হয়ে পড়ে। জেলার বিভিন্ন নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হওয়ার খবরও পাওয়া গেছে।
পটুয়াখালী শহরের বাসিন্দা পার্থ বলেন, রাত থেকেই বাসার উঠান ও নিচতলায় পানি উঠে যায়। সকালে পানি কিছুটা কমলেও অনেক জিনিসপত্র নষ্ট হয়েছে। প্রতিবছর বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হয়। কোনো এক অজ্ঞাত কারণে আমাদের এই এলাকার ড্রেনটি এখনো কাঁচা। তার ওপর ড্রেনে পলি জমে থাকায় বৃষ্টি হলেই আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়ি। পৌর প্রশাসনের দ্রুত পদক্ষেপ আশা করি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বছরের পর বছর একই সমস্যার পুনরাবৃত্তি হলেও জলাবদ্ধতা নিরসনে দৃশ্যমান ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। কাঁচা ড্রেন, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার অভাবে সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই সড়ক ও বাসাবাড়িতে পানি জমে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি হচ্ছে।
টানা বৃষ্টিতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশা-ভ্যানচালকসহ নিম্ন আয়ের মানুষ। বৃষ্টির কারণে অনেকেই কাজে বের হতে পারেননি। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল পরিবারগুলো আর্থিক সংকটে পড়েছে।
রিকশাচালক মো. কবির মোল্লা বলেন, সকাল থেকে বৃষ্টি। রাস্তায় মানুষ কম, যাত্রীও নেই। সারাদিনে যা আয় হয়, আজ তার অর্ধেকও হয়নি। সংসার চালানো কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
দিনমজুর মো. মালেক সরদার বলেন, বৃষ্টি হলে কাজ থাকে না। কাজ না করলে আয়ও নেই। পরিবারের খাবার জোগাড় করাই এখন সবচেয়ে বড় চিন্তা।
পটুয়াখালী জেলা আবহাওয়া অফিসের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাহবুবা সুখী জানান, গত ২৪ ঘণ্টায় জেলায় ১৫১ দশমিক ৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী কয়েকদিনও বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। একই সঙ্গে দমকা কিংবা ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, বর্ষা মৌসুমে প্রতি বছর একই চিত্রের পুনরাবৃত্তি রোধে দ্রুত ড্রেন সংস্কার, পলি অপসারণ এবং আধুনিক ড্রেনেজ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। অন্যথায় সামান্য ভারী বৃষ্টিতেই শহরবাসীকে আবারও জলাবদ্ধতার দুর্ভোগে পড়তে হবে।
