সোমবার, ৯ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৪শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

ঢাবি-পল্লবী থানায় ককটেল বিস্ফোরণ, ভাটারায় স্কুলবাসে আগুন

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেম্বর ৮, ২০২৬ ৯:৪০ অপরাহ্ণ
Link Copied!

রাজধানীজুড়ে আতঙ্ক ও নিরাপত্তা উদ্বেগ, কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ঢাবির চার স্থানে বিস্ফোরণ; সন্দেহভাজন তিনজন আটক। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিস্ফোরিত একটি ককটেলের অংশবিশেষ।ছবি: সংগৃহীত

রাজধানীজুড়ে ককটেল বিস্ফোরণ ও যানবাহনে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারটি স্থানে কয়েক মিনিটের ব্যবধানে ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে গণধোলাইয়ের পর পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। একই সন্ধ্যায় পল্লবী থানা চত্বরে একটি ককটেল বিস্ফোরণ এবং ভাটারা এলাকায় শিক্ষার্থী বহনকারী একটি স্কুলবাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এসব ঘটনা ঘটে। এর আগে শনিবার গভীর রাতেও রাজধানীর যাত্রাবাড়ী, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) এবং বনানীর চেয়ারম্যান বাড়ি এলাকায় সেতু ভবনের সামনে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এ ছাড়া মিরপুরের পল্লবী মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে একটি বাসে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, রোববার সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণের কাছে, ভিসি চত্বর এবং নবাব নওয়াব আলী চৌধুরী সিনেট ভবনের সামনে একের পর এক ককটেল বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। সব মিলিয়ে ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।

বিস্ফোরণের পর জড়িত সন্দেহে তিনজনকে আটক করে উপস্থিত লোকজন মারধর করেন। পরে তাদের শাহবাগ থানায় হস্তান্তর করা হয়। আটক ব্যক্তিরা হলেন—নাজমুস সাদ (৩৩), সোহেল রানা (৩৩) ও রেজাউল করিম (৪২)। তাদের মধ্যে নাজমুস সাদের বাড়ি গোপালগঞ্জ, সোহেল রানার বাড়ি রাজশাহী এবং রেজাউল করিমের বাড়ি নাটোরে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, টিএসসি এলাকায় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালানোর চেষ্টা করেন দুই ব্যক্তি। মেট্রোরেল-সংলগ্ন এলাকা দিয়ে পালানোর সময় তাদের আটক করা হয়। এ সময় উপস্থিত লোকজন তাদের মারধর করেন। পরে আরও একজনকে আটক করে পুলিশের কাছে দেওয়া হয়।

শাহবাগ থানার ওসি মো. মনিরুজ্জামান সমকালকে বলেন, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং জানান, বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় ৮ থেকে ১০টি ককটেল বিস্ফোরিত হয়েছে। তবে এতে কেউ হতাহত হননি।

এদিকে সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে পল্লবী থানা চত্বরে একটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। পল্লবী থানার ওসি জালাল উদ্দিন জানান, মিরপুর ডিওএইচএস ফ্লাইওভার থেকে মোটরসাইকেলে করে এসে দুর্বৃত্তরা থানার গেটের ভেতরে একটি ককটেল ছুড়ে মারে। সেটি বিস্ফোরিত হলেও কেউ হতাহত হননি।

অন্যদিকে, রোববার সন্ধ্যা ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে ভাটারা থানার ১০০ ফিট এলাকায় জলসিঁড়ি ক্যান্টনমেন্ট স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী বহনের জন্য ব্যবহৃত একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। বাসটি সেখানে দাঁড় করানো ছিল। ভাটারা থানার ওসি মাজহারুল ইসলাম সমকালকে জানান, এক দুর্বৃত্ত বাসটিতে আগুন লাগিয়ে পালিয়ে যায়। তাকে শনাক্ত ও আটকের চেষ্টা চলছে।

রাজধানীর বিভিন্ন স্থানে ধারাবাহিক ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার আকতার হোসেন বলেছেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন এবং একটি দলের বিভিন্ন অঙ্গসংগঠনের সদস্যরা নাশকতার উদ্দেশ্যে ও জনমনে আতঙ্ক সৃষ্টি করতে এসব বিস্ফোরণ ঘটাচ্ছেন বলে পুলিশের ধারণা।

মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন। তিনি জানান, প্রতিটি ঘটনা পুলিশ পর্যবেক্ষণ ও তদন্ত করছে। ইতোমধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত কয়েকজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়া ঠেকাতে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজধানীতে পুলিশের টহল ও পিকেট ডিউটি অব্যাহত রয়েছে।

এর আগে শনিবার দিবাগত রাত ১টা ৩ মিনিটে যাত্রাবাড়ী থানার সামনে দুটি ককটেল বিস্ফোরণ ঘটায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত। হানিফ ফ্লাইওভার থেকে এসে তারা এ বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায়। যাত্রাবাড়ী থানার ওসি মোহাম্মদ রাজু সমকালকে জানান, এ ঘটনায় কেউ হতাহত হয়নি। বিস্ফোরণের ঘটনায় রোববার সন্ধ্যায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছিল।

একই রাতে ১২টা ৩৪ মিনিটে শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের পকেট গেট এলাকায় ককটেল বিস্ফোরণ ঘটিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য জানান, ক্যাম্পাসের বাইরে থেকে ককটেলগুলো ভেতরে ছুড়ে মারা হয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক ড. আরফান আলী বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের কোনো ধরনের ভয়ভীতি পাওয়ার কারণ নেই। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজধানীর একাধিক এলাকায় একই সময়সীমার মধ্যে ককটেল বিস্ফোরণ ও অগ্নিসংযোগের এসব ঘটনায় জননিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ঘটনাগুলোর পেছনে কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে এসব নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড ঘটানো হচ্ছে এবং এর মধ্যে কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে নগরবাসী।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।