প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নুর। ছবি: সংগৃহীত
এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতা জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন দাবি। সঠিক তদন্ত হলে প্রত্যেকের অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে।
তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের বিরুদ্ধে সঠিকভাবে তদন্ত করা হলে প্রত্যেকের নামে অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে বলে দাবি করেছেন প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ও গণঅধিকার পরিষদের নেতা নুরুল হক নুর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) সাগর-রুনি মিলনায়তনে গণঅধিকার পরিষদ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের কমিটি গঠনের লক্ষ্যে আয়োজিত কর্মিসভায় তিনি এ দাবি করেন। দলের ঢাকা মহানগর দক্ষিণ উপকমিটি এ কর্মিসভার আয়োজন করে।
নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই যে ছয় মাস দায়িত্বে আছি—যে যত কথাই বলুক, স্পেসিফিকভাবে কেউ কোনো দুর্নীতি ও অনিয়ম প্রমাণ করতে পারবে না। যেদিন প্রমাণ করবে, আমরা বলেছি—সেদিন আমরা দায়িত্ব ছেড়ে দেব।’
তিনি বলেন, ‘আমরা বলেছি যে, আমরা যেই পরিবর্তনের লড়াই বাংলাদেশে শুরু করেছি, তার শেষ আমরা দেখে যেতে চাই। এই নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণের জন্য আমরা একটু লড়াই-সংগ্রাম করতে চাই।’
‘তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টাদের প্রত্যেকের শত কোটি টাকার দুর্নীতি’
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সমালোচনা করে নুরুল হক নুর বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তথাকথিত দল এনসিপিকে দাঁড় করানোর জন্য আওয়ামী লীগের ‘মাফিয়া লুটেরাদের’ যেভাবে পুনর্বাসন করেছিল, একইভাবে তাদের ক্ষমতায়ন করেছে। এর মাধ্যমে তাদের শত শত কোটি টাকার মালিক বানানো হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
নুর বলেন, ‘শুধুমাত্র একজন উপদেষ্টা নয়—এই তথাকথিত ছাত্র উপদেষ্টা যারা ছিল, তাদের যদি সঠিকভাবে তদন্ত করা হয়, প্রত্যেকের অন্তত শত কোটি টাকার দুর্নীতি পাওয়া যাবে; আমি চ্যালেঞ্জ করে বলতে পারি।’
তিনি আরও বলেন, ‘কাজেই এই বিপ্লবের কথা বলে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ নাই।’
এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতা জামায়াত-শিবিরের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন: নুর
এনসিপির ৮০ শতাংশ নেতা অতীতে জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ছিলেন বলেও দাবি করেন নুরুল হক নুর। তাঁর মতে, জামায়াতের প্রভাব থেকে বেরিয়ে বিকল্প রাজনীতি করতে না পারলে এনসিপির টিকে থাকা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ও সরকারি সংস্থাগুলোতে প্রভাব বিস্তারের কারণে কিছু আদর্শিক তরুণ প্রলোভনে পড়ে গণঅধিকার পরিষদে তাদের ধরে রাখা সম্ভব হয়নি।
‘রাজপথে একরকম, সংসদে আরেকরকম’
বিরোধী দল জামায়াতের সমালোচনা করে নুর বলেন, রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য তারা দ্বিচারিতা করছে। রাজপথে এক ধরনের অবস্থান এবং সংসদে ভিন্ন অবস্থান নেওয়া হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জুলাই-পরবর্তী নতুন বাংলাদেশের স্বপ্নের কথা তুলে ধরে নুর বলেন, রাষ্ট্রকে নাগরিকদের প্রতি দায়বদ্ধ এবং জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। জনগণের ভ্যাট-ট্যাক্সের টাকায় রাষ্ট্র পরিচালিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী ও সরকারি কর্মকর্তাসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীকে জনগণের প্রতি দায়িত্ব ও দরদের জায়গা থেকে সেবা দিতে হবে।
তিনি বলেন, ‘কিন্তু আমার মনে হয় যে অনেক দপ্তরে আসলে এখনও আমরা ওই পরিবর্তনটা ঘটাতে পারি নাই।
এখনো বিভিন্ন কাজে সুপারিশ করতে হয়’
সরকারি বিভিন্ন দপ্তরে এখনো নানা কাজে সুপারিশের প্রয়োজন হয় বলেও মন্তব্য করেন নুরুল হক নুর। নিজের দপ্তরে বিভিন্ন দুর্নীতির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান তিনি।
অভিবাসনের ক্ষেত্রে প্রার্থীদের আরও সতর্ক হওয়ার আহ্বান জানিয়ে নুর বলেন, বিদেশ যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো ভালোভাবে যাচাই-বাছাই করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
‘সুবিধাবাদের চিন্তা করলে রাজনীতিতে টিকে থাকা যাবে না’
দলীয় নেতা-কর্মীদের উদ্দেশে নুরুল হক নুর বলেন, ‘এই সুযোগ-সুবিধা, খুদ-কুড়া—এই চিন্তা-ভাবনা না করে রাজনীতিতে যেহেতু ফ্যাসিস্টদের সময়ে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেছেন, রাজনৈতিকভাবে আমি মনে করি—আপনাদের যে একটা সংগ্রাম, আদর্শিক লড়াই—সেই লড়াইকেই আমাদের টিকিয়ে রাখতে হবে।
তিনি বলেন, ‘সুবিধাবাদের চিন্তা-ভাবনা করলে আমরাও রাজনীতিতে টিকব না, আমাদের রাজনীতিও হারিয়ে যাবে।
আগামী স্থানীয় নির্বাচনে দলীয় সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গণঅধিকার পরিষদ নিজস্ব সামর্থ্য অনুযায়ী অংশগ্রহণ করবে বলেও জানান তিনি।
কর্মিসভায় আরও বক্তব্য দেন গণঅধিকার পরিষদের জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতি ফারুক হাসান, দলের নেতা আরিফুর রহমান, মো. ইউনুস, আরিফুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট নাজিব উদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক নুরুল করিম শাকিলসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
