রাষ্ট্রায়ত্ত জ্বালানি প্রতিষ্ঠান তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন পিএলসি–এর ময়মনসিংহ আঞ্চলিক কার্যালয় যেন এখন সরকারি অফিস নয়, বরং গোপনে গড়ে ওঠা এক ব্যক্তিগত কৃষি সাম্রাজ্য।
অভিযোগ উঠেছে—সরকারি সম্পত্তি দখল করে বছরের পর বছর বাণিজ্যিক কৃষি চালিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিচ্ছেন কিছু কর্মচারী, অথচ সেই টাকার এক টাকাও যাচ্ছে না রাষ্ট্রের কোষাগারে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, অফিস প্রাঙ্গণের বিশাল মাঠ—যা সরকারি কাজে ব্যবহারের কথা—সেটি এখন ধান, সবজি আর মাছ চাষের উর্বর ব্যবসায়িক ক্ষেত্র। অভিযোগের তীর সরাসরি নিলুফা, সেলিম ও মনিরের দিকে—যারা নাকি এই ‘নীরব বাণিজ্য’ চালিয়ে ব্যক্তিগতভাবে লাভের পাহাড় গড়েছেন।
স্থানীয়দের ক্ষোভ তীব্র— অনুমতি নেই, নিয়ম নেই—তবু চলছে কোটি টাকার খেলা! তাদের দাবি, কোনো ধরনের সরকারি অনুমোদন ছাড়াই প্রভাব খাটিয়ে এই কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। প্রশাসনিক দুর্বলতা আর নীরবতার সুযোগে সরকারি সম্পদ যেন ব্যক্তিগত আয়ের খনি হয়ে উঠেছে। এতে শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিই নয়, প্রশ্ন উঠেছে পুরো জবাবদিহি ব্যবস্থার ওপর।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার (প্রশাসন) সাধন রায়ের রহস্যজনক নীরবতা আরও সন্দেহ ঘনীভূত করেছে—প্রশ্ন শুনেই ফোন কেটে দেন তিনি।
অন্যদিকে ম্যানেজার মাকসুদুজ্জামান পাঠান ভবিষ্যতে এমন কার্যক্রম বন্ধের আশ্বাস দিলেও অতীতের অনিয়ম নিয়ে ছিলেন এড়িয়ে যাওয়ার কৌশলে।
কিন্তু এখানেই শেষ নয়— একই কার্যালয় ঘিরে আরও বিস্ফোরক অভিযোগ সামনে আসছে।
* বাউন্ডারি ওয়াল থেকে লক্ষাধিক টাকার কাঁটাতার উধাও
* প্রভাবশালীদের কাছে অবৈধ গ্যাস সংযোগ
* প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতা
সব মিলিয়ে পুরো অফিস যেন অনিয়মের অন্ধকার জালে বন্দি! সচেতন মহলের কণ্ঠে এখন একটাই প্রশ্ন—সরকারি সম্পদ কি ব্যক্তিগত সম্পত্তি হয়ে যাচ্ছে?
তাদের দাবি, দ্রুত নিরপেক্ষ তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে এই ‘লুটের সংস্কৃতি’ আরও ভয়ংকর রূপ নেবে।
বিশ্লেষকদের মতে, বিষয়টি আর স্থানীয় পর্যায়ে সীমাবদ্ধ নেই— এখন প্রয়োজন পেট্রোবাংলাসহ সরকারের উচ্চপর্যায়ের সরাসরি হস্তক্ষেপ।
কারণ সময়মতো লাগাম টানা না হলে—
এই ‘কৃষি সাম্রাজ্য’ই হয়ে উঠতে পারে রাষ্ট্রীয় সম্পদ লুটের নতুন মডেল!
