বৃহস্পতিবার, ১১ই জুন, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২৮শে জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

থানা পুড়িয়ে দিয়েছি’ বলে হুমকি দেওয়া সেই মাহাদীরই শেষ আশ্রয় থানা! হবিগঞ্জে নতুন বিতর্ক

হবিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি
জুন ১০, ২০২৬ ১০:১৭ অপরাহ্ণ
Link Copied!

হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসান

হবিগঞ্জে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জেলা শাখার সদস্যসচিব মাহাদী হাসানকে ঘিরে ফের শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা। একসময় থানায় গিয়ে ওসিকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগে আলোচিত হওয়া এই ছাত্রনেতাই এবার দাবি করেছেন, ছাত্রদলের কর্মীদের ধাওয়ার মুখে পড়ে প্রাণ বাঁচাতে তাকে থানায় আশ্রয় নিতে হয়েছে।

বুধবার দুপুরে শহরের বৃন্দাবন সরকারি কলেজ এলাকার কাছে ঘটনাটি ঘটে বলে দাবি করেন মাহাদী। এ সময় তিনি রিকশায় বসেই ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ করেন, কোর্ট মসজিদ এলাকার সামনে ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা তার ওপর হামলার চেষ্টা করছে। লাইভ চলাকালেই তাকে হবিগঞ্জ সদর থানার ভেতরে প্রবেশ করতে দেখা যায়।

তবে অভিযোগের পরপরই শুরু হয় পাল্টা প্রতিক্রিয়া। ছাত্রদলের নেতারা দাবি করেন, পুরো ঘটনাই সাজানো এবং প্রচার পাওয়ার উদ্দেশ্যে তৈরি করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন বলেন, মাহাদীর নিজের ফেসবুক লাইভেই তার অভিযোগের অসারতা ফুটে উঠেছে। লাইভে তিনি বারবার পেছনের দৃশ্য দেখালেও সেখানে কাউকে ধাওয়া করতে দেখা যায়নি। ফলে ছাত্রদলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন তিনি।

ঘটনার বিষয়ে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদুল হক বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিদ্রূপাত্মক মন্তব্য করাকে কেন্দ্র করে মাহাদী হাসানের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরোধ রয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বুধবারের অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ভিডিওতে হামলাকারী বা ধাওয়াকারী হিসেবে কাউকে শনাক্ত করা যায়নি।

ওসি আরও জানান, মাহাদী থানায় এসে একটি মৌখিক অভিযোগ দিয়েছেন। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় যাচাই-বাছাই শেষে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

পুরোনো ভিডিও আবারও আলোচনায়

এ ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবারও ঘুরে বেড়াতে শুরু করেছে মাহাদী হাসানের একটি পুরোনো ভিডিও। চলতি বছরের ২ জানুয়ারি শায়েস্তাগঞ্জ থানায় গিয়ে ওসির সঙ্গে বাকবিতণ্ডার সময় তাকে বলতে শোনা যায়, “বানিয়াচং থানা কিন্তু আমরা পুড়িয়ে দিয়েছিলাম, এসআই সন্তোষকে কিন্তু আমরা জ্বালাই দিয়েছিলাম।”

ভিডিওটি প্রকাশের পর সে সময় ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন তিনি। আর এবার সেই একই মাহাদীর থানায় গিয়ে নিরাপত্তা চাওয়ার ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে শুরু হয়েছে আলোচনা, বিতর্ক এবং নানা প্রশ্ন।

প্রশ্নের মুখে অভিযোগ, তদন্তে পুলিশ

একদিকে মাহাদীর দাবি—তিনি হামলার আশঙ্কায় থানায় আশ্রয় নিয়েছেন। অন্যদিকে ছাত্রদল বলছে—এটি শুধুই ‘ভাইরাল হওয়ার চেষ্টা’। পুলিশও এখন পর্যন্ত অভিযোগের পক্ষে দৃশ্যমান কোনো প্রমাণ পাওয়ার কথা জানায়নি।

ফলে ঘটনাটি এখন শুধু একটি অভিযোগ নয়, বরং রাজনৈতিক পাল্টাপাল্টি বক্তব্য, পুরোনো বিতর্ক এবং নতুন প্রশ্নের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রকৃত ঘটনা কী ছিল, সেটিই এখন দেখার অপেক্ষা।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।