বাড়ির লোকজনের চিৎকারে ছুটে এলেন স্থানীয়রা, পালাতে গিয়ে আহত। ছবি : সমতল মাতৃভূমি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে এবার চুরি করতে গিয়ে অভিনব কৌশল অবলম্বন করেও শেষ রক্ষা হলো না এক যুবকের। গভীর রাতে বোরকা ও নারীদের পোশাক পরে বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় বাড়ির লোকজনের চিৎকারে আশপাশের লোকজন ছুটে এসে তাকে আটক করেন। পালানোর চেষ্টা করতে গিয়ে ওই যুবক আহতও হয়েছেন।
শুক্রবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দিবাগত গভীর রাতে উপজেলার আড়িয়া ইউনিয়নের আড়িয়া মন্ডলপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আটক যুবকের নাম ইসরাইল (৩০)। তিনি আড়িয়া মন্ডলপাড়া গ্রামের মৃত ইয়ামিন মন্ডলের ছেলে।
স্থানীয় ও ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, রাত আনুমানিক আড়াইটার দিকে চুরির উদ্দেশ্যে ইসরাইল আড়িয়া মন্ডলপাড়া গ্রামের মো. কদর আলী, পিতা—মুকছেদ মন্ডল এবং মোছা. মালা খাতুন, স্বামী—মোখলেসুর রহমানের বাড়িতে প্রবেশের চেষ্টা করেন। এ সময় বাড়ির লোকজন বিষয়টি টের পেয়ে গেলে তাদের ওপর অতর্কিত হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
পরিস্থিতি আঁচ করতে পেরে বাড়ির লোকজন চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে মুহূর্তেই আশপাশের লোকজন ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। পরে স্থানীয় লালান, টিপু, পুদ্দার ও রুবেলসহ কয়েকজনের সহযোগিতায় ইসরাইলকে আটক করা হয়।
পালাতে গিয়ে চুলার ভেতর, এরপর দেয়াল থেকে পড়ে আহত
স্থানীয়রা জানান, ধরা পড়ার পর ইসরাইল পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে পালানোর সময় তিনি রান্নাঘরের চুলার ভেতরে পড়ে শরীরের একটি অংশে আঘাত পান। এরপরও থেমে না থেকে দেয়ালের ওপর দিয়ে পালানোর চেষ্টা করলে সেখান থেকে পড়ে গিয়ে পায়ে আঘাত পান। পরে স্থানীয়রা তাকে নিয়ন্ত্রণে এনে আটক করেন।
স্থানীয়দের দাবি, চুরির সময় সন্দেহ এড়াতেই ইসরাইল বোরকা ও নারীদের পোশাক-পায়জামা পরেছিলেন। গভীর রাতে নারীর বেশ ধরে বাড়িতে প্রবেশের এই কৌশলের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
আগেও চুরির অভিযোগ, বলছেন স্থানীয়রা
স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ইসরাইলের বিরুদ্ধে এর আগেও এলাকায় একাধিক চুরির অভিযোগ রয়েছে। গ্রামের বিভিন্ন বাড়িতে সংঘটিত চুরির ঘটনায় তার সম্পৃক্ততার কথাও তারা জানেন বলে দাবি করেন। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা ও আইনগত দায় সংশ্লিষ্ট তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
খবর পেয়ে নিকটস্থ থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আটক যুবককে হেফাজতে নেয়। পরে তার শরীরে আঘাতের চিহ্ন থাকায় চিকিৎসার জন্য তাকে দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়।
এ ঘটনায় এলাকায় রাতের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। স্থানীয়রা চুরি-ছিনতাই প্রতিরোধে রাতের পুলিশের টহল জোরদার করার পাশাপাশি আগের চুরির অভিযোগগুলোও তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
