ব্যাগ ও আইনজীবী আনোয়ার হোসেন। ছবি: কোলাজ
রাজধানীতে এক দিনেই পাঁচটি মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এর মধ্যে আদাবরে একটি ব্যাগের ভেতর থেকে অজ্ঞাতনামা এক নারীর মস্তক, দুই হাত ও শরীরের অংশ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে তার দুই পা এখনো উদ্ধার হয়নি। এ ছাড়া লালবাগে নিজ বাসা থেকে এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ এবং শাহবাগ ও ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল এলাকা থেকে আরও তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পৃথক স্থান থেকে বিভিন্ন সময়ে এসব মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
আদাবরে ব্যাগে নারীর খণ্ডিত মরদেহ
শনিবার বিকেল ৫টার দিকে রাজধানীর আদাবরের ১০ নম্বর বালুর মাঠের হাক্কারপাড় এলাকার খাল থেকে একটি ব্যাগের ভেতর নারীর খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয়রা জানান, খালপাড়ে দীর্ঘ সময় ধরে একটি কালো রঙের ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখে তাদের সন্দেহ হয়। পরে কৌতূহলবশত ব্যাগটি ধরে টান দিলে প্রথমে একটি হাত বেরিয়ে আসে। এরপর ব্যাগের ভেতর থেকে একটি মাথা গড়িয়ে বের হয়ে আসে। মাথাটি একজন তরুণীর বলে ধারণা করা হচ্ছে। পরে খালে তল্লাশি চালিয়ে মরদেহের মূল অংশ উদ্ধার করা হয়।
এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই নারীর দুই পা উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে আদাবর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাহিদুল ইসলাম গণমাধ্যম কে বলেন, একটি ব্যাগের ভেতর থেকে মস্তক, দুই হাত ও শরীরের অংশ পাওয়া গেছে। তবে খণ্ডিত দুই পা এখনো পাওয়া যায়নি। সেগুলোর সন্ধানে পুলিশ কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, ‘দুর্বৃত্তরা ওই নারীকে হত্যার পর মরদেহটি টুকরো করে ব্যাগে ভরে খালপাড়ে ফেলে রেখে গেছে। মরদেহের পরিচয় শনাক্তসহ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনে পুলিশ কাজ করছে।
লালবাগে বাসা থেকে আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ
শনিবার সকালে রাজধানীর লালবাগের একটি ভাড়া বাসা থেকে আনোয়ার হোসেন (৪৭) নামে এক আইনজীবীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। পুলিশের ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে।
জানা গেছে, নিহত আনোয়ার জজ কোর্টের একজন আইনজীবী ছিলেন। তবে ২০১২ সালের পর থেকে তিনি বার কাউন্সিলে অনিয়মিত ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলায়। পরিবারের অন্য সদস্যরা কামরাঙ্গীরচর এলাকায় থাকেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে লালবাগ থানার ওসি মোহাম্মদ জামিল হোসেন জানান, আনোয়ার বিয়ে করেছিলেন। সম্ভবত তার ডিভোর্স হয়ে গেছে। ওই বাসায় তিনি একাই থাকতেন। শনিবার পাশের কক্ষের এক ভাড়াটিয়া তাকে মৃত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখে পুলিশকে খবর দেন।
পরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তার বোন ও বোনজামাই ঘটনাস্থলে যান। সিআইডির ক্রাইম সিন টিম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিভিন্ন আলামত সংগ্রহ করেছে।
ওসি জামিল আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, স্ট্রোক করে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
শাহবাগে দুই অজ্ঞাতনামা মরদেহ
শনিবার দুপুরে রাজধানীর শাহবাগ থানাধীন পৃথক দুটি স্থান থেকে অজ্ঞাতনামা দুই পুরুষের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশ ধারণা করছে, তারা দুজনই ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন।
শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) তৌফিক হাসান বলেন, ‘জাতীয় ঈদগাহ মাঠসংলগ্ন ফুটপাত ও কদম ফোয়ারা মোড় থেকে ওই দুটি মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের আনুমানিক বয়স ৬৫ ও ৪৫ বছর। উভয়ের পরনে ছিল ময়লাযুক্ত ছেঁড়া পোশাক।
প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত দুজনই ভবঘুরে প্রকৃতির। অসুস্থতাজনিত কারণে তাদের মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে বলে ধারণা করছে পুলিশ।
ঢামেকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তির মৃত্যু
একই দিন বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের অপেক্ষাগারের পাশে এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে (৭০) অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে ওয়ার্ড মাস্টার আইয়ুব আলী তাকে উদ্ধার করে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
ঢামেক পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মৃত ব্যক্তি ভবঘুরে প্রকৃতির ছিলেন। অসুস্থতাজনিত কারণে তার মৃত্যু হয়ে থাকতে পারে। তবে অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর জানা যাবে। তবে মৃত ব্যক্তির পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
