গলায় ফাঁসের চিহ্ন, ময়নাতদন্তের প্রতিবেদনের অপেক্ষায় পুলিশ। এলাকাবাসীর নানা প্রশ্ন। ছবি সমতল মাতৃভূমি
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় সুরাইয়া খাতুন (৭) নামে এক শিশুর রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। মঙ্গলবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে উপজেলার হোগলবাড়িয়া ইউনিয়নের জয়রামপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত সুরাইয়া খাতুন একই গ্রামের সম্রাট হোসেন ও রুনি খাতুনের মেয়ে। বাবা-মায়ের বিবাহবিচ্ছেদের পর সে তার নানা-নানির কাছে বসবাস করত।
নিহত শিশুর পরিবারের বরাত দিয়ে পুলিশ জানায়, ঘটনার দিন সকালে মোবাইল ফোনে অতিরিক্ত সময় কাটানো নিয়ে নানি সুরাইয়াকে বকাবকি করেন। পরে ঋণের কিস্তির টাকা পরিশোধ করতে তিনি বাড়ির বাইরে যান। এদিকে শিশুটির নানা কৃষিকাজের জন্য মাঠে ছিলেন। ফলে কিছু সময়ের জন্য সুরাইয়া বাড়িতে একাই ছিল।
কিছুক্ষণ পর নানা বাড়িতে ফিরে তাকে খুঁজতে শুরু করেন। পরে ঘরে গিয়ে শিশুটিকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। স্বজন ও স্থানীয়দের সহায়তায় দ্রুত দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
হাসপাতালে শিশুটির গলায় ফাঁসের চিহ্ন দেখতে পেয়ে কর্তৃপক্ষ পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করে। পুলিশ জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পরিবারের সদস্যরা দাবি করেছেন, সুরাইয়া ক্যান্সারে আক্রান্ত ছিল এবং মাঝে-মধ্যে তার শরীরে তীব্র জ্বালাপোড়া করত। তবে মৃত্যুর ঘটনাটি প্রথমে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছিল বলেও পুলিশের দাবি। পরে হাসপাতালের তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থল ও হাসপাতালে গিয়ে তদন্ত শুরু করে।
পুলিশ শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
এদিকে মাত্র সাত বছর বয়সী একটি শিশুর এমন মৃত্যুকে ঘিরে এলাকায় নানা প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়দের মতে, এত অল্প বয়সী একটি শিশু গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করতে পারে—এমন বিষয়টি স্বাভাবিক মনে হচ্ছে না। তাই ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে নিরপেক্ষ ও বিস্তারিত তদন্তের মাধ্যমে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, শিশুটির মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছিল। ময়নাতদন্ত শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে। তদন্তের ভিত্তিতেই পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
