শুক্রবার, ৪ঠা সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ২০শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

নামজারিতে ঘুষের অভিযোগ, বহুতল ভবনসহ সাড়ে ৫ কোটি টাকার সম্পদের মালিক ভূমি কর্মকর্তা আলিমউদ্দিন, আয়ের উৎস নিয়ে প্রশ্ন

নিজস্ব প্রতিবেদক
সেপ্টেম্বর ৩, ২০২৬ ১১:১৭ পূর্বাহ্ণ
Link Copied!

নামজারি, জমির রেকর্ড সংশোধন ও ভূমি-সংক্রান্ত বিভিন্ন সেবাকে ঘিরে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলার চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের সহকারী ভূমি কর্মকর্তা মো. আলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে। একই সঙ্গে সরকারি চাকরির আয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্যহীন বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

অভিযোগ রয়েছে, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে চাকরি করলেও নরসিংদীর মতো শহরে তার রয়েছে বহুতল ভবন। পাশাপাশি শিবপুরে প্রায় ৫ শতাংশের একটি প্লট, বাসাইলে ৩ শতাংশ ও ৮ শতাংশের আরও দুটি প্লট এবং আটতলা বিশিষ্ট ডুপ্লেক্স ভিলাসহ তার স্থাবর সম্পদের আনুমানিক মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ কোটি টাকা বলে স্থানীয় সূত্রের দাবি।

তবে সরকারি চাকরি করে মাসিক বেতন হিসেবে তিনি কত টাকা আয় করেন এবং বিপুল এই সম্পদের অর্থের উৎস কী—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, তার সম্পদের প্রকৃত হিসাব ও আয়ের উৎস খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

নামজারিতে ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা ঘুষের অভিযোগ

স্থানীয় একাধিক ব্যক্তির অভিযোগ, আলিমউদ্দিন পুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন নামজারি প্রক্রিয়ায় অনিয়ম ও ঘুষের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। অভিযোগ রয়েছে, প্রতিটি নামজারির জন্য ৫ হাজার থেকে ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত নেওয়া হতো।

কোনো পর্চা বা দলিলে ত্রুটি থাকলে অভিযোগের মাত্রা আরও বাড়ত। জমির পরিমাণ ও মূল্য বিবেচনায় নিয়ে ক্ষেত্রবিশেষে ১ লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঘুষ নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

এ ছাড়া হারিদোয়া নদীর ওপর নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের কাজকে কেন্দ্র করেও মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

একই জমি দুই ব্যক্তির নামে নামজারির অভিযোগ

আলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একই দাগ ও খতিয়ানভুক্ত জমি দুই ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকাব্বর মোল্লার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে একটি জমি তার নামে নামজারি করা হয়। পরবর্তীতে একই জমি ও একই দাগ-খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি রাসেল নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার নামে নামজারি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি জানাজানি হলে আকাব্বর মোল্লা আলিমউদ্দিনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি কাগজপত্র থাকার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এবং মিস কেস করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

পরবর্তীতে আকাব্বর মোল্লার ছেলে মহসিন মোল্লা ক্ষুব্ধ হয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আলিমউদ্দিন ক্ষমা চান এবং নামজারি সংশোধন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজস্ব ফাঁকি ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ

আলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চার লেনের রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত জমিতে একজনের জায়গা অন্যজনের নামে দেখানো, নাল জমিকে দোকানপাট বা বাড়ির জমি হিসেবে দেখানো এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত রেকর্ডে পরিবর্তনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অনিয়মের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া হারিদোয়া নদীর ওপর নির্মিত বিভিন্ন স্থাপনা ও সংশ্লিষ্ট বিল্ডিংয়ের কাজকে কেন্দ্র করেও মোটা অঙ্কের অর্থ নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

একই জমি দুই ব্যক্তির নামে নামজারির অভিযোগ

আলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগগুলোর একটি হলো—একই দাগ ও খতিয়ানভুক্ত জমি দুই ব্যক্তির নামে নামজারি করে দেওয়ার অভিযোগ।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আকাব্বর মোল্লার কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে একটি জমি তার নামে নামজারি করা হয়। পরবর্তীতে একই জমি ও একই দাগ-খতিয়ানভুক্ত সম্পত্তি রাসেল নামের আরেক ব্যক্তির কাছ থেকেও ৫০ হাজার টাকা নিয়ে তার নামে নামজারি করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বিষয়টি জানাজানি হলে আকাব্বর মোল্লা আলিমউদ্দিনকে এ বিষয়ে প্রশ্ন করেন। তখন তিনি কাগজপত্র থাকার কথা উল্লেখ করে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেন এবং মিস কেস করার পরামর্শ দেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

পরবর্তীতে আকাব্বর মোল্লার ছেলে মহসিন মোল্লা ক্ষুব্ধ হয়ে ভূমি অফিসে গিয়ে তাকে মারধরের চেষ্টা করেন বলে জানা যায়। এ সময় পরিস্থিতি সামাল দিতে আলিমউদ্দিন ক্ষমা চান এবং নামজারি সংশোধন করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে মুচলেকা দেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ঘটনাটির সত্যতা যাচাই করে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র পর্যালোচনা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

রাজস্ব ফাঁকি ও জমির শ্রেণি পরিবর্তনের অভিযোগ

আলিমউদ্দিনের বিরুদ্ধে সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, চার লেনের রাস্তা নির্মাণসংক্রান্ত জমিতে একজনের জায়গা অন্যজনের নামে দেখানো, নাল জমিকে দোকানপাট বা বাড়ির জমি হিসেবে দেখানো এবং অধিগ্রহণসংক্রান্ত রেকর্ডে পরিবর্তনের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের মতো গুরুতর অনিয়মের সঙ্গেও তার সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ রয়েছে।

এসব অভিযোগের পক্ষে বিভিন্ন নথিপত্র, কাগজপত্র ও অন্যান্য তথ্য-প্রমাণ রয়েছে বলে দাবি করছেন অভিযোগকারীরা। অতীতে এসব অভিযোগ নিয়ে বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল, ইউটিউব ও টেলিভিশন চ্যানেলে সংবাদ প্রকাশ ও প্রচার হয়েছে বলেও তারা জানান।

শাস্তির বদলে বদলি—উঠছে প্রশ্ন

অভিযোগকারীদের দাবি, পুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ ও সংবাদ প্রকাশের পরও দৃশ্যমান কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং তৎকালীন শিবপুর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাকে শাস্তির পরিবর্তে মনোহরদীর চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি করে দেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ বিষয়ে আলিমউদ্দিন বিভিন্ন সময় সংশ্লিষ্টদের কাছে বলেছেন বলে অভিযোগকারীরা দাবি করেন, তিনি একা এসব টাকা ভোগ করেন না; ওপরের কর্মকর্তাদেরও দিতে হয়। তবে এ বক্তব্যের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

‘দালাল সিন্ডিকেট’ গড়ে তোলার অভিযোগ

স্থানীয়দের অভিযোগ, পুটিয়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে কর্মরত থাকার সময় আলিমউদ্দিনের একজন ব্যক্তিগত সহকারী এবং প্রায় ১০ জন সক্রিয় দালাল ছিল। তাদের মাধ্যমে এলাকাভিত্তিক ভূমি-সংক্রান্ত কাজ সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসে বদলি হওয়ার পরও তিনি সেখানে একই ধরনের একটি দালালচক্র বা সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন বলে স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন।

অভিযোগকারীদের ভাষ্য, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ যাতে সরাসরি কর্মকর্তার কাছে না গিয়ে দালালদের মাধ্যমে সেবা নিতে বাধ্য হন—এমন একটি পরিবেশ তৈরির অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দালালদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সম্পদের হিসাব চায় স্থানীয় সুশীল সমাজ

সরকারি চাকরিতে থেকে একজন ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নামে-বেনামে এত বিপুল সম্পদ কীভাবে গড়ে উঠেছে—এ প্রশ্ন এখন স্থানীয়দের মধ্যে জোরালো হয়ে উঠেছে।

স্থানীয় সুশীল সমাজের পক্ষ থেকে নরসিংদীর জেলা প্রশাসকের কাছে আলিমউদ্দিনের স্থাবর-অস্থাবর সম্পদের হিসাব যাচাই, আয়কর নথি পর্যালোচনা এবং অভিযোগগুলোর বিষয়ে প্রশাসনিক তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপও কামনা করেছেন তারা।

তাদের দাবি, অভিযোগ সত্য হলে সরকারি চাকরির আয়ের বাইরে সম্পদ অর্জনের উৎস, ভূমি-সংক্রান্ত অনিয়ম, নামজারিতে ঘুষ গ্রহণ এবং কথিত দালাল সিন্ডিকেটের বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।

আরও সম্পদের অনুসন্ধান চলছে

অভিযোগকারীরা দাবি করছেন, সাড়ে ৫ কোটি টাকার কথিত সম্পদের বাইরেও আলিমউদ্দিনের নামে-বেনামে আরও সম্পদ থাকতে পারে। এসব সম্পদের তথ্য ও নথিপত্র সংগ্রহের কাজ চলছে বলেও তারা জানিয়েছেন।

তবে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর বিষয়ে মো. আলিমউদ্দিনের বক্তব্য, সম্পদের বৈধ উৎস এবং সংশ্লিষ্ট ভূমি রেকর্ডের নথি যাচাই করা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে প্রশাসনিক তদন্ত, সম্পদ বিবরণী, আয়কর রিটার্ন, দলিল ও নামজারি নথি পর্যালোচনাই হতে পারে সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

চন্দনবাড়ি ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এই কর্মকর্তার কথিত সম্পদের প্রকৃত উৎস কী? নামজারিতে ঘুষ গ্রহণ ও একই জমি একাধিক ব্যক্তির নামে নামজারির অভিযোগ কতটা সত্য? আর কথিত দালাল সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা?—এসব প্রশ্নের উত্তর এখন তদন্তের অপেক্ষায়।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।