গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ছবি- সংগৃহীত
দেশের নিম্ন আয়ের মানুষের আবাসন সংকট নিরসনে বড় উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় প্রায় এক লাখ সাশ্রয়ী মূল্যের আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন শহরে ভাড়াভিত্তিক আধুনিক আবাসন সুবিধা সম্প্রসারণেও নেওয়া হয়েছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ।
রোববার জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান গৃহায়ন ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের।
ড্যাপে চিহ্নিত ৫৮টি এলাকা
মন্ত্রী জানান, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক) প্রণীত ডিটেইল এরিয়া প্ল্যান (ড্যাপ) ২০২২-২০৩৫-এ নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী আবাসন নিশ্চিত করতে কড়াইল বস্তিসহ ৫৮টি স্থান চিহ্নিত করা হয়েছে।
এসব এলাকায় সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে প্রায় এক লাখ ফ্ল্যাট নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে।
টঙ্গীতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নতুন আবাসন প্রকল্প
তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
টঙ্গীতে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য নতুন আবাসন প্রকল্প
তিনি জানান, গাজীপুরের টঙ্গীর দত্তপাড়ায় জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের মালিকানাধীন ৯৮ একর জমিতে পর্যায়ক্রমে সীমিত আয়ের মানুষের জন্য আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
৩৭টি বস্তিতে জীবনমান উন্নয়নের পরিকল্পনা
গৃহায়নমন্ত্রী বলেন, উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার অর্থায়নে রাজশাহী, দিনাজপুর, বরিশাল, খুলনা, কুষ্টিয়া, ময়মনসিংহ এবং নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা এলাকার প্রায় ৩৭টি বস্তিতে বসবাসরত স্বল্প আয়ের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ একটি বিশেষ প্রকল্প গ্রহণের উদ্যোগ নিয়েছে।
রাজশাহী ও খুলনায় নতুন ফ্ল্যাট প্রকল্প
মন্ত্রী জানান, রাজশাহী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পদ্মা আবাসিক এলাকার ৫৭৮ নম্বর প্লটে ১৬টি আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণের উদ্যোগ নিয়েছে।
অন্যদিকে খুলনা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ হরিণটানা মৌজার প্রায় আট একর জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য নতুন আবাসিক ফ্ল্যাট নির্মাণ প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
চট্টগ্রামে আসছে ভাড়াভিত্তিক আবাসন
গৃহায়নমন্ত্রী আরও জানান, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (চউক) আওতাধীন সল্টগোলা এলাকায় চউকের মালিকানাধীন প্রায় ৮৩ কাঠা জমিতে স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য মাসিক ভাড়াভিত্তিক আবাসনের ব্যবস্থা করতে স্ব-অর্থায়ন অথবা সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) ভিত্তিক একটি প্রকল্পের প্রস্তাব বর্তমানে বিবেচনাধীন রয়েছে।
সরকারের লক্ষ্য
সরকারের এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো নিম্ন ও স্বল্প আয়ের মানুষের জন্য সাশ্রয়ী, নিরাপদ ও পরিকল্পিত আবাসন নিশ্চিত করা, যাতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ সহজ শর্তে আধুনিক আবাসন সুবিধার আওতায় আসতে পারেন।
