অব্যহতি প্রাপ্ত মিজানুর রহমান ফাইল ছবি
দায়িত্বের মঞ্চে যেখানে থাকা উচিত ছিল সততা ও শৃঙ্খলার দীপ্তি, সেখানে নেমে এলো অবহেলার অন্ধকার। আর সেই অন্ধকারেই যেন নিভে গেল এক প্রধান শিক্ষকের দায়িত্বের প্রদীপ। ঢাকার রামপুরার একরামুন্নেছা বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কেন্দ্রসচিব মোঃ মিজানুর রহমানকে পরীক্ষার সব কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দিয়েছে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড, ঢাকা।
বুধবার (২২ এপ্রিল), বোর্ড চেয়ারম্যান প্রফেসর ড. খোন্দকার এহসানুল কবির স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তি যেন বজ্রপাতের মতো নেমে আসে—অভিযোগ, দায়িত্ব পালনে চরম অবহেলা!
ঘটনার ভেতরের গল্প-দায়িত্বের জায়গায় শৈথিল্যের
ছায়া। ঢাকা-৪৪ কেন্দ্র (কোড-৪৭১)—যেখানে শত শত শিক্ষার্থীর স্বপ্ন বোনা হয় পরীক্ষার খাতায়, সেই কেন্দ্রের নেতৃত্বে ছিলেন মিজানুর রহমান। কিন্তু বাস্তবতা যেন গল্পের বিপরীত—দায়িত্বের জায়গায় শৈথিল্য, নিয়মের জায়গায় অনিয়ম।
বোর্ডের ভাষ্য অনুযায়ী, চলমান পরীক্ষায় তার অবহেলার প্রমাণ এতটাই স্পষ্ট ছিল যে, তাকে তাৎক্ষণিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্তও দেরি করা হয়নি।
শুধু অব্যাহতি নয়—আসছে কঠোর ব্যবস্থা- এ যেন শুধু বিদায় নয়, আরও গভীর ঝড়ের পূর্বাভাস। বোর্ড কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই তার বিরুদ্ধে কঠোর বিভাগীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দিয়েছে। মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে পাঠানো হয়েছে আনুষ্ঠানিক অনুরোধ।
ঢাকা জেলা প্রশাসকের পাঠানো একটি পত্রের ভিত্তিতেই এই সিদ্ধান্ত—যেন একের পর এক অভিযোগের জালে শেষমেশ তাকে আটকে ফেলেছে।
অভিযোগের স্তূপ: এক দীর্ঘদিনের জমে থাকা গল্প
এই ঘটনাটি যেন হঠাৎ নয়—বরং বহুদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বিস্ফোরণ। মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে অভিযোগগুলো যেন এক নাটকের মতো: অতিরিক্ত টিউশন ফি আদায়, স্কুলের কক্ষ ভাড়া দিয়ে অর্থ আত্মসাৎ, অকৃতকার্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে বাড়তি ফি নিয়ে ফরম ফিলাপ। আবার যোগ্য শিক্ষককে বাদ দিয়ে নিজেই বিদেশ সফরে যাওয়া। কম্পিউটার ক্লাস না নিয়েও প্রশিক্ষণের নামে বিদেশ ভ্রমণ। অব্যাহতির খবর প্রকাশের পরই তার বিরুদ্ধে পুরনো নানা অভিযোগ আবার সামনে এসেছে। স্থানীয় সূত্রে যেসব অভিযোগ ঘুরে বেড়াচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে—বিশেষ করে আইসিটি বিষয়ের শিক্ষক না হয়েও বিদেশে প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়ার বিষয়টি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। এসব অভিযোগ যেন শিক্ষার্থীদের স্বপ্নের সাথে এক নির্মম প্রতারণার গল্প বলে।
নেটিজেনদের প্রশ্ন: কেন এই বিশেষ সুবিধা?
সামাজিক মাধ্যমে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন— যিনি ক্লাসই নেন না, তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে গেলেন কেন?
যোগ্যদের বঞ্চিত করে এই সুবিধা কেন নিজের জন্য?
এই প্রশ্নগুলো যেন শুধুই অভিযোগ নয়, বরং ক্ষোভে ভরা এক প্রজন্মের আর্তনাদ।
নেটিজেনদের প্রশ্ন: কেন এই বিশেষ সুবিধা? সামাজিক মাধ্যমে উঠেছে একের পর এক প্রশ্ন— যিনি ক্লাসই নেন না, তিনি বিদেশে প্রশিক্ষণে গেলেন কেন? প্রাপ্তদের বঞ্চিত করে এই সুবিধা কেন নিজের জন্য?
এই প্রশ্নগুলো যেন শুধুই অভিযোগ নয়, বরং ক্ষোভে ভরা এক প্রজন্মের আর্তনাদ।
পুরনো বিতর্কের ছায়া: গাজীপুর থেকে রামপুরা
গল্পের শিকড় আরও গভীরে। সাবেক কর্মস্থল গাজীপুরেও তার বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ উঠেছিল। এমনকি অপসারণের দাবিতে হয়েছিল মানববন্ধন। তবুও, অভিযোগ রয়েছে—অসাধু কমিটির যোগসাজশে তিনি নতুন করে নিয়োগ পান রামপুরার এই বিদ্যালয়ে।
শেষ না শুরু? এই অব্যাহতি কি কেবল একটি অধ্যায়ের সমাপ্তি, নাকি আরও বড় কোনো তদন্তের সূচনা—তা সময়ই বলবে। তবে আপাতত, দায়িত্বের অবহেলার এই গল্প শিক্ষাঙ্গনে এক সতর্কবার্তা হয়ে রইলো— বিশ্বাসের জায়গায় যদি ফাটল ধরে, পতন তখন শুধু সময়ের অপেক্ষা।
