বুধবার, ২২শে এপ্রিল, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ | ৯ই বৈশাখ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
আজকের সর্বশেষ সবখবর

স্বল্প বেতন, বিপুল সম্পদ: সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকিরকে ঘিরে দুর্নীতির বিস্তৃত অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক
এপ্রিল ২২, ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ
Link Copied!

জাকির হোসেন ফাইল ছবি: সংগৃহীত

স্বল্প বেতনের চাকরি, অথচ বিলাসবহুল জীবনযাপন—এই বৈপরীত্যকে কেন্দ্র করে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছেন সাভারের সাব-রেজিস্ট্রার জাকির হোসেন। মাত্র কয়েক বছরের চাকরিজীবনে শত কোটি টাকার সম্পদের মালিক হওয়ার অভিযোগ ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে প্রশ্ন ও ক্ষোভ।

অনুসন্ধানে উঠে এসেছে জমি কেনাবেচায় অনিয়ম, জাল দলিল তৈরি, রাজস্ব ফাঁকি, ঘুষ লেনদেন এবং প্রভাব খাটিয়ে পদায়নের মতো গুরুতর অভিযোগ। সরকারি আয়ের সঙ্গে তার জীবনযাত্রার বিস্তর অমিল দুর্নীতির সন্দেহকে আরও জোরদার করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার তেলিনা এলাকায় তার নামে ৫৪ শতাংশ জমি রয়েছে। দলিলে এর মূল্য দেখানো হয়েছে প্রায় ৩০ লাখ টাকা, যদিও প্রকৃত বাজারমূল্য কয়েক কোটি টাকা বলে দাবি স্থানীয়দের। একই এলাকায় মার্কেটসহ আরও জমি ক্রয় করে ‘শিকদার মোহাম্মদ আলী মার্কেট’ গড়ে তোলা হয়েছে, যেখান থেকে প্রতি মাসে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ ভাড়া আদায় করা হয়।

এছাড়া বিভিন্ন স্থানে আরও জমি, বিলাসবহুল বাড়ি, ফ্ল্যাট ও গাড়ির মালিকানার তথ্য পাওয়া গেছে। ঢাকার মোহাম্মদপুরে স্ত্রীর নামে একটি অভিজাত ফ্ল্যাটে বসবাসের পাশাপাশি মিরপুরে বহুতল ভবন নির্মাণের কাজও চলছে।

অভিযোগ রয়েছে, রাজনৈতিক পরিচয় পরিবর্তন করে প্রভাবশালী মহলের সহায়তায় গুরুত্বপূর্ণ পদে বদলি হওয়ার। চাকরিজীবনের শুরু থেকেই জমির শ্রেণি পরিবর্তন, ভুয়া দাতা দেখিয়ে দলিল তৈরি এবং সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দেওয়ার মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে।

এদিকে জাকির হোসেন এর ব্যাংক লেনদেন বিশ্লেষণে তার ও স্ত্রীর হিসাবে প্রায় ১২ কোটি টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। পাশাপাশি স্বর্ণসহ আরও সম্পদের তথ্য মিললেও সবকিছুর সুনির্দিষ্ট প্রমাণ এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ, মাছের ঘের, পোলট্রি ও গরুর খামার গড়ে তোলার মতো কর্মকাণ্ডও রয়েছে তার সম্পদের তালিকায়।

বিশ্বস্ত সূত্রের বরাতে জানা গেছে, উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে কিছু মৌজায় জমি রেজিস্ট্রেশন করার অভিযোগও উঠেছে। এর বিনিময়ে মোটা অঙ্কের ঘুষ নেওয়া হচ্ছে বলে দাবি ভুক্তভোগীদের।

আরও গুরুতর অভিযোগ হিসেবে, একটি হত্যা মামলায় তাকে আসামি করা হয়েছে। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রভাবশালী মহলের কারণে এসব মামলার তেমন কোনো প্রভাব পড়েনি তার ব্যক্তিগত বা পেশাগত জীবনে।

রেজিস্ট্রি অফিস সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রতিদিন বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের ঘটনা ঘটে। পাশাপাশি অফিসে একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের অভিযোগও উঠেছে। সাধারণ সেবা নিতে আসা মানুষদেরও নানা ধরনের হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

তবে এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন জাকির হোসেন। তার দাবি, অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। একই সঙ্গে তিনি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ নিয়ে কড়া হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন। এমনকি সংবাদ প্রকাশ করলে দেখে নেবেন এমন বাক্য উচ্চারণে সচেতন মহলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

আবার অভিযোগগুলো নিয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ জমা পড়লেও এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো তদন্ত অগ্রগতি না থাকায় প্রশ্ন উঠছে—প্রভাবশালী চক্রের আড়ালে কি থমকে আছে বিচার প্রক্রিয়া? এমন প্রশ্নেরই উত্তর খুঁজছে নেটিজেনরা।

এসব বিষয় বক্তব্য জানতে জাকির হোসেন এর মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি ফোনকল গ্রহণ করেননি হোয়াটসঅ্যাপে খুদেবার্তা পাঠানো হলেও কোনো জবাব মেলেনি।

এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।